কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতারণা, ফিশিং ও ডিপফেকের ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন সমাধান নিয়ে এসেছে সাইবার নিরাপত্তা স্টার্টআপ রেকেন। গুগলের সাবেক শীর্ষ বিশেষজ্ঞের সহ-প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা ব্যবহারকারীর তথ্য ক্লাউডে পাঠানোর পরিবর্তে সরাসরি ডিভাইসেই বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য প্রতারণা শনাক্ত করতে সক্ষম।
ডিভাইসেই চলবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রেকেনের তৈরি প্ল্যাটফর্মটি ছোট আকারের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো ব্যবহারকারীর কম্পিউটারেই কাজ করে, ফলে তথ্য বাইরে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি দ্রুত হুমকি শনাক্ত করাও সম্ভব হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাধারণ অফিসের ল্যাপটপেও এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে চলতে পারে। অতিরিক্ত শক্তিশালী যন্ত্র বা বিশেষ প্রসেসরের প্রয়োজন হয় না, তবুও এটি তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে সক্ষম।

কর্মীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য
রেকেনের প্রথম পণ্য ‘নর্থস্টার’ মূলত কর্মীদের প্রতারণামূলক বার্তা শনাক্ত করার চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান সময়ে প্রতারণার কৌশল এতটাই উন্নত হয়েছে যে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করে কর্মীদের নিরাপদ রাখা কঠিন।
এই প্রযুক্তি শুধু সন্দেহজনক বার্তা শনাক্ত করে না, বরং কোনো বার্তা সত্যিই নির্ভরযোগ্য প্রেরকের কাছ থেকে এসেছে কি না, সেটিও যাচাই করার চেষ্টা করে। ফলে ব্যবহারকারীদের প্রতিটি বার্তার সত্যতা নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করতে হয় না।
বাড়ছে এআইভিত্তিক প্রতারণার ঝুঁকি
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। প্রতারকরা এখন ভুয়া পরিচয়, ডিপফেক, নকল বার্তা এবং বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। এমনকি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও অনেক সময় এসব প্রতারণার শিকার হতে পারেন বলে মনে করছে রেকেন।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজেদের এক নতুন কর্মীকেও যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারকরা এই কৌশল ব্যবহার করে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রেকেন শুধু পৃথক ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতেই থেমে থাকতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, তাদের সরবরাহকারী এবং অংশীদারদের একই নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে যুক্ত করে আরও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তবে একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সমষ্টিগত ও পরিচয়বিহীনভাবে ব্যবহার করা হবে, যাতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে।
বর্তমানে নর্থস্টার করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে উন্মুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে আরও নতুন নিরাপত্তা পণ্য আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















