রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি দাবি করেছে, ইউক্রেন দুটি বড় ধরনের ড্রোন হামলার পরিকল্পনা করেছিল, যেখানে বেলুন, গোপন কক্ষযুক্ত ট্রেলার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, দেশটির ভেতরের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার জন্য এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
দূরের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করার অভিযোগ
রুশ নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের লক্ষ্য ছিল আমুর অঞ্চলের ইউক্রাইঙ্কা সামরিক ঘাঁটি এবং চেলিয়াবিনস্কের শাগোল বিমানঘাঁটি। এসব এলাকা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথমে নির্দিষ্ট ধরনের ড্রোন ও বেলুনের মাধ্যমে ছোট আকারের হামলাকারী ড্রোন দেশটির ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। পরে সেগুলো আরও গভীরে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি ট্রেলার ব্যবহার করা হয়।
গোপন পরিবহনের অভিযোগ
সারাক্ষণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছে, এসব ড্রোন বহনের জন্য এমন ট্রেলার ব্যবহার করা হয়েছিল, যার নিচে লুকানো অংশ ছিল। বাইরে থেকে এগুলো সাধারণ গৃহস্থালি পণ্যের পরিবহনের মতো দেখানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রুশ কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, বিমানঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় গ্যারেজে ড্রোনগুলো প্রস্তুত করা হয়। অভিযানের সময় বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ড্রোন জব্দ করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার
রাশিয়ার দাবি, উদ্ধার করা ড্রোনগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা ছিল। এই প্রযুক্তি ড্রোনকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হলেও নির্দিষ্ট কাজ চালিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে।
আধুনিক যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একাধিক ড্রোন একসঙ্গে পরিচালনার ধারণা দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধ কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
আগের হামলার সঙ্গে মিল খুঁজছে রাশিয়া
রুশ কর্মকর্তারা এই ঘটনার সঙ্গে ইউক্রেনের আগের একটি বড় ড্রোন অভিযানের মিল দেখিয়েছেন। ওই অভিযানে ইউক্রেন ট্রাক ব্যবহার করে রাশিয়ার কয়েকটি বিমানঘাঁটির কাছে ড্রোন পৌঁছে হামলা চালানোর দাবি করেছিল।
তবে নতুন অভিযোগের বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার দাবি ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ছোট আকারের ড্রোন, উন্নত প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সামরিক কৌশলে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের সংঘাতে দ্রুত, কম খরচের এবং প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন হামলা আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















