০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ’ ম্যাচ, কড়া নিরাপত্তায় আটলান্টা ১৮ শতকের রুটির জাদু, প্রাচীন পদ্ধতিতে নতুন প্রজন্মের মুগ্ধতা হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তায় ২০ শতাংশ ফি চাইল যুক্তরাষ্ট্র, তীব্র হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা বৈরিতা: ফুটবলের বাইরে দুই শতকের ইতিহাস, যুদ্ধ ও সম্পর্কের গল্প ভারতে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির দাবিতে অনশন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সোনম ওয়াংচুকের বার্তা সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ রথযাত্রা উৎসবে বড় ঘোষণা, পশ্চিমবঙ্গে আয়োজকদের ৫ লাখ টাকা করে অনুদান আকাশ ছুঁতে মাটির নিচে শিল্পীর অনন্য যাত্রা, ডেনমার্কে খুলল শততম আলো-আকাশের স্থাপনা মনিপুর সংকট: কুকি-জোদের আলোচনার উদ্যোগে মিজোরামের দ্বারস্থ, শান্তির পথে নতুন চেষ্টা অসম থেকে দুই বছরে ১৯৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ

কাবেরী বদ্বীপে পানির সংকট, ধান চাষে ধাক্কা খেল দক্ষিণ ভারতের শস্যভাণ্ডার

কাবেরী বদ্বীপে চলতি মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকদের দুর্দশা বেড়েছে। দুর্বল বর্ষা ও কাবেরী নদীর পানির সংকটে বহু কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। ধান চাষের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কৃষকদের আয় ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

পানির অভাবে কমেছে ধান চাষের জমি

তামিলনাড়ুর থাঞ্জাভুরসহ কাবেরী বদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় কুরুভাই ধান চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার চাষের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। থাঞ্জাভুরে কুরুভাই চাষের জমি প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার একর থেকে কমে প্রায় ৮৯ হাজার একরে নেমে এসেছে। তিরুভারুর জেলাতেও চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মেট্টুর বাঁধ থেকে নির্ধারিত সময়ে পানি ছাড়া সম্ভব হয়নি পর্যাপ্ত মজুত না থাকায়। ফলে কাবেরী নির্ভর বহু কৃষক ধান রোপণের সুযোগ পাননি। অনেক জমি প্রস্তুত করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে ফসল ফলানো যায়নি।

দুর্বল বর্ষা ও পানির সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

চলতি বছরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত দুর্বল হওয়ায় নদী ও খালগুলোতে পানির প্রবাহ কমেছে। এর সঙ্গে কাবেরীর পানি বণ্টন নিয়েও দীর্ঘদিনের বিরোধ কৃষকদের সংকট আরও বাড়িয়েছে।

কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, আগামী মৌসুমের ফসলও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত পানি না এলে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পশুখাদ্যের সংকটও দেখা দিতে পারে।

Weak Monsoon and Cauvery Water Shortage Trigger Crop Crisis in Tamil Nadu  Delta - BozokMedia

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করেও মিলছে না স্বস্তি

কিছু কৃষক ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে চাষ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নতুন করে নলকূপ স্থাপন করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মের কারণেও সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক জমিতে ফসল ধরে রাখতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

কৃষকদের ক্ষতি, গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব

কৃষকদের একাংশ জানিয়েছেন, পানি আসবে এমন আশায় তারা জমি প্রস্তুত করতে অর্থ খরচ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাষ করতে না পারায় সেই খরচও উঠে আসছে না। কৃষিশ্রমিকদের কাজ কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে খরাপ্রবণ ঘোষণা করে দ্রুত সহায়তা দিতে হবে। ফসল বীমার আওতায় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করার দাবি জানানো হয়েছে।

সামনে কঠিন সময়ের আশঙ্কা

কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে কুরুভাই ধান উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি হতে পারে। আগামী ফসলও যদি পানির সংকট বা আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে কৃষকদের আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

কাবেরী বদ্বীপের কৃষিজীবী মানুষের চোখ এখন বৃষ্টি ও নদীর পানির দিকে। পর্যাপ্ত পানি না মিললে এই অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়তে পারে।

কাবেরী বদ্বীপে পানির সংকটে ধান চাষ কমেছে, কৃষকদের দুর্দশা বেড়েছে। দুর্বল বর্ষা ও সেচ সমস্যায় বিপাকে দক্ষিণ ভারতের কৃষি অঞ্চল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ’ ম্যাচ, কড়া নিরাপত্তায় আটলান্টা

কাবেরী বদ্বীপে পানির সংকট, ধান চাষে ধাক্কা খেল দক্ষিণ ভারতের শস্যভাণ্ডার

০৭:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কাবেরী বদ্বীপে চলতি মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকদের দুর্দশা বেড়েছে। দুর্বল বর্ষা ও কাবেরী নদীর পানির সংকটে বহু কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। ধান চাষের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কৃষকদের আয় ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

পানির অভাবে কমেছে ধান চাষের জমি

তামিলনাড়ুর থাঞ্জাভুরসহ কাবেরী বদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় কুরুভাই ধান চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার চাষের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। থাঞ্জাভুরে কুরুভাই চাষের জমি প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার একর থেকে কমে প্রায় ৮৯ হাজার একরে নেমে এসেছে। তিরুভারুর জেলাতেও চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মেট্টুর বাঁধ থেকে নির্ধারিত সময়ে পানি ছাড়া সম্ভব হয়নি পর্যাপ্ত মজুত না থাকায়। ফলে কাবেরী নির্ভর বহু কৃষক ধান রোপণের সুযোগ পাননি। অনেক জমি প্রস্তুত করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে ফসল ফলানো যায়নি।

দুর্বল বর্ষা ও পানির সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

চলতি বছরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত দুর্বল হওয়ায় নদী ও খালগুলোতে পানির প্রবাহ কমেছে। এর সঙ্গে কাবেরীর পানি বণ্টন নিয়েও দীর্ঘদিনের বিরোধ কৃষকদের সংকট আরও বাড়িয়েছে।

কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, আগামী মৌসুমের ফসলও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত পানি না এলে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পশুখাদ্যের সংকটও দেখা দিতে পারে।

Weak Monsoon and Cauvery Water Shortage Trigger Crop Crisis in Tamil Nadu  Delta - BozokMedia

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করেও মিলছে না স্বস্তি

কিছু কৃষক ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে চাষ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নতুন করে নলকূপ স্থাপন করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মের কারণেও সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক জমিতে ফসল ধরে রাখতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

কৃষকদের ক্ষতি, গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব

কৃষকদের একাংশ জানিয়েছেন, পানি আসবে এমন আশায় তারা জমি প্রস্তুত করতে অর্থ খরচ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাষ করতে না পারায় সেই খরচও উঠে আসছে না। কৃষিশ্রমিকদের কাজ কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে খরাপ্রবণ ঘোষণা করে দ্রুত সহায়তা দিতে হবে। ফসল বীমার আওতায় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করার দাবি জানানো হয়েছে।

সামনে কঠিন সময়ের আশঙ্কা

কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে কুরুভাই ধান উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি হতে পারে। আগামী ফসলও যদি পানির সংকট বা আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে কৃষকদের আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

কাবেরী বদ্বীপের কৃষিজীবী মানুষের চোখ এখন বৃষ্টি ও নদীর পানির দিকে। পর্যাপ্ত পানি না মিললে এই অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়তে পারে।

কাবেরী বদ্বীপে পানির সংকটে ধান চাষ কমেছে, কৃষকদের দুর্দশা বেড়েছে। দুর্বল বর্ষা ও সেচ সমস্যায় বিপাকে দক্ষিণ ভারতের কৃষি অঞ্চল।