যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট ও কানাডার উইন্ডসরকে যুক্ত করা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু চালুর পথে এগোলেও এর টোল ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, দুই দেশের আলোচনার পর আগামী ২৭ জুলাই সেতুটি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সেতুর আয় থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন তহবিলে অর্থ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সেতু নির্মাণে দীর্ঘ অপেক্ষা
গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতুর পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। কানাডা এর নির্মাণ ব্যয়ের বড় অংশ বহন করেছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আয় ভাগাভাগির পরিকল্পনা ছিল। নতুন এই সেতু চালু হলে ডেট্রয়েট ও উইন্ডসরের ব্যস্ত সীমান্ত পথে যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সেতু চালু হলে সীমান্ত পারাপারের সময় প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে পাশের অ্যাম্বাসাডর সেতুর সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ায় টোল কমার সম্ভাবনাও ছিল।

টোল নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে হুমকি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেতু চালু হতে দেওয়া হবে না। তার দাবি ছিল, কানাডার সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিযোগের সমাধান প্রয়োজন।
এই অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, বাণিজ্যিক অবকাঠামো প্রকল্পকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নতুন চুক্তিতে টোলের প্রভাব
চুক্তি অনুযায়ী, সেতুর টোল থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ প্রথম ১৫ বছর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিলে যাবে। এই তহবিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া টোল বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের বিষয়টি রাখা হয়েছে। তবে টোল কমানোর ক্ষেত্রেও অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে, যা প্রতিযোগিতা কমিয়ে দুই সেতুর ব্যবহারকারীদের জন্য খরচ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে প্রভাব
নতুন সেতু বাণিজ্য সহজ করার জন্য তৈরি হলেও টোল ব্যবস্থার কারণে এর খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসার ওপর পড়তে পারে। গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে তার প্রভাব বাজারদরেও দেখা দিতে পারে।
অবকাঠামো প্রকল্পে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব অর্থনীতি ও ভোক্তা স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















