বিশ্বজুড়ে ফুটবলে ভিডিও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে যখন সমর্থকদের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন ব্যতিক্রমী অবস্থান ধরে রেখেছে সুইডেনের শীর্ষ ফুটবল লিগ। দেশটির ঘরোয়া ফুটবলে এখনো ব্যবহার করা হয় না ভিডিও সহকারী রেফারি ব্যবস্থা, যা সমর্থকদের বড় একটি আন্দোলনের ফল।
প্রযুক্তির বিরুদ্ধে সমর্থকদের অবস্থান
বর্তমান সময়ে বিশ্বের প্রায় সব বড় ফুটবল লিগে সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের জন্য ভিডিও প্রযুক্তি চালু হয়েছে। তবে সুইডেনের ফুটবল সমর্থকরা মনে করেন, নিখুঁত সিদ্ধান্তের চেয়ে মাঠের স্বাভাবিক আবেগ ও গতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সুইডেনের শীর্ষ লিগে এই প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমর্থক সংগঠনগুলোর প্রবল বিরোধিতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। দেশটির ক্লাব ব্যবস্থাপনায় সমর্থকদের বড় ভূমিকা থাকায় তাদের মতামতই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পেয়েছে।
গোলের আনন্দ হারানোর ভয়
সমর্থকদের যুক্তি, প্রযুক্তির কারণে একটি গোল উদযাপনের পর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। পরে সিদ্ধান্ত বদলে গেলে সেই মুহূর্তের আনন্দ নষ্ট হয়ে যায়। তাদের মতে, মানুষের ভুলের মধ্যেও ফুটবলের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে।
সুইডেনের ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল হয়েছে। তবে সমর্থকদের বড় অংশ মনে করেন, এমন কিছু ভুল মেনে নেওয়া যায় যদি খেলার গতি ও আবেগ অক্ষুণ্ন থাকে।
বিশ্ব ফুটবলে বাড়ছে বিতর্ক
বিশ্বের বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ভিডিও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কও বেড়েছে। অনেক সমর্থক মনে করছেন, ছোট ছোট ঘটনাকে বারবার বিশ্লেষণ করার কারণে ফুটবলের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে মাঠের সামান্য সংস্পর্শ বা ক্ষুদ্র অফসাইডের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বদলে যাচ্ছে। এতে খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
সুইডেনের পথ দেখাচ্ছে ভিন্ন ভাবনা
সুইডেনের ফুটবল কর্তৃপক্ষের মতে, প্রযুক্তি থাকলেও শতভাগ নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কারণ ভিডিও দেখার পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয় মানুষের বিচারবোধ দিয়ে।
সুইডেনের সমর্থকদের এই অবস্থান এখন বিশ্বের অনেক ফুটবলপ্রেমীর আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। যারা ভিডিও প্রযুক্তির কারণে বিরক্ত, তাদের জন্য সুইডেন হয়ে উঠেছে ভিন্ন এক ফুটবল অভিজ্ঞতার উদাহরণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















