ইউরোপের বাড়তে থাকা খরচ, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক চাপ এবং চীনের গাড়ি শিল্পের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বড় ধরনের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে ভক্সওয়াগেন। প্রতিষ্ঠানটি আরও ৫০ হাজার কর্মী কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে ।
খরচ কমাতে বড় পরিকল্পনা
ভক্সওয়াগেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অলিভার ব্লুম কর্মীদের উদ্দেশে এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও অঞ্চলে কর্মী কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের গাড়ি শিল্প ব্যাপক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্রশাসন, অবকাঠামো এবং অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমে প্রতিযোগী গাড়ি নির্মাতাদের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি খরচ হচ্ছে। এই ব্যবধান কমাতে বেতন না কমিয়েও প্রায় ৫০ হাজার কর্মী কমানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
চার জার্মান কারখানা নিয়ে অনিশ্চয়তা
অলিভার ব্লুম জানিয়েছেন, জার্মানির চারটি কারখানার ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। এমডেন, হ্যানোভার, জুইকাউ এবং নেকারজুলমের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে আগামী দশকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় নেওয়ার পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তবে তিনি কারখানা বন্ধের পরিবর্তে বুদ্ধিমান সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে জার্মানির একটি ছোট কারখানা নিয়ে প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে আলোচনাও চলছে বলে জানা গেছে।
আগের ছাঁটাইয়ের পরও চাপ অব্যাহত
ভক্সওয়াগেনের মূল ব্র্যান্ডসহ অডি ও পোর্শের মতো সহযোগী প্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে ৫০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমঝোতা বজায় রাখতে আগাম অবসর ও স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার মতো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করায় কর্মী কমানোর গতি ধীর হয়েছে।
গত বছরের শেষে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার কর্মী কাজ করছিলেন। বিপুল কর্মীসংখ্যা ও উচ্চ পরিচালন ব্যয় এখন ভক্সওয়াগেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীনা গাড়ি ও বৈশ্বিক চাপ বাড়াচ্ছে সমস্যা
চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতারা ভক্সওয়াগেনের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ইউরোপের বাজারেও চীনা ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি বাড়ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে আমদানিনির্ভর ব্যবসায় অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়েছে।
ভক্সওয়াগেন বলছে, উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় খরচ কমানো ও উৎপাদন কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















