যুক্তরাষ্ট্রের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা ক্যাথরিন রুমলারকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের পরও তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে পরামর্শক হিসেবে থেকে যাওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দায়িত্ব ছাড়ার পরও থাকছেন রুমলার
ক্যাথরিন রুমলার আগে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রধান আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। তবে নতুন উত্তরসূরি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকছেন। এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কিছু মহলে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়ায় রুমলারের উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরও রুমলারের প্রভাব কতটা থাকবে তা স্পষ্ট নয়।

এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক
রুমলারের সঙ্গে অভিযুক্ত অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের অতীত যোগাযোগ নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রুমলার জানিয়েছেন, তাদের সম্পর্ক ছিল পেশাগত পর্যায়ের এবং এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।
তার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না। তবে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি ও যোগাযোগের তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ে।
নতুন উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়ায় জটিলতা
গোল্ডম্যান স্যাকস নতুন প্রধান আইন কর্মকর্তা খুঁজছে। এই প্রক্রিয়ায় রুমলার প্রার্থীদের যাচাইয়ে যুক্ত থাকায় কিছু মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তা মাইকেল বসওয়ার্থ এই পদের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হলেও, তিনি এই প্রক্রিয়া নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
রুমলারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, তিনি বসওয়ার্থকে একজন দক্ষ আইনজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দেখেন এবং তাকে সহযোগিতা করছেন।
প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়ে চিন্তা
গোল্ডম্যান স্যাকসের ভেতরে কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্ক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি রুমলারের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
রুমলার বর্তমানে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন এবং তিনি মনে করছেন, তার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা পুরো ঘটনার সঠিক প্রতিফলন নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 









