জনপ্রিয় পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান শেইন হংকংয়ে শেয়ার বাজারে প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন পেয়েছে। চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বাজারে আসার প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেইনের বাজার সম্প্রসারণে নতুন অধ্যায়
চীনের নানজিং শহরে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা শেইন কম দামের আধুনিক পোশাক বিক্রির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশে পণ্য সরবরাহ করে। দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্রেতার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ পোশাক তৈরি করাই তাদের ব্যবসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
চীনের অনুমোদন কেন গুরুত্বপূর্ণ
শেইনের প্রধান কারখানাগুলো চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। যদিও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে, তবুও চীনের উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর তাদের বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। এ কারণেই হংকংয়ে শেয়ার বাজারে প্রবেশের জন্য চীনের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে কৌশল পরিবর্তন
এর আগে শেইন যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে আসার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা ও শ্রমনীতি নিয়ে নানা প্রশ্নের কারণে সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। পরে লন্ডনের বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনাও বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জটিল হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেয়। শেইনের প্রধান নির্বাহী স্কাই শু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চীনের উৎপাদন খাতে ১০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সরবরাহ ব্যবস্থার বিস্তার
শেইন এখন চীনের পাশাপাশি ব্রাজিল ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের কারখানার সঙ্গে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করছে। তবে হংকংয়ের বাজারে প্রবেশ প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শেয়ার বাজারে আসার মাধ্যমে শেইন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নতুন অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবে এবং আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করবে।
শেইনের হংকং বাজারে প্রবেশের অনুমোদন, ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যায়নের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক ব্যবসা সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















