যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিচল্যান্ড প্যারিশ এলাকায় মেটার বিশাল তথ্যকেন্দ্র প্রকল্পের আকার আরও বড় হয়েছে। প্রকল্পটির কম্পিউটিং সক্ষমতা ৫ গিগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে এবং এর ব্যয় এখন ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে বলে জানিয়েছে মেটা।
এটি মেটার সবচেয়ে বড় তথ্যকেন্দ্র প্রকল্প হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো খাতে বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগ হিসেবেও এটি বিবেচিত হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে
এই প্রকল্পে বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে বেসরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্লু আউল ক্যাপিটালের। এ ছাড়া ব্ল্যাকরকের মতো বড় বিনিয়োগকারীরাও প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
শুরুতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৭ বিলিয়ন ডলার। পরে সম্প্রসারণের কারণে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর দায়িত্ব নেবে মেটা
মেটা জানিয়েছে, তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, পানি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর খরচ বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের মার্চে লুইজিয়ানা এন্টার্জি কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ অবকাঠামো তৈরির অর্থায়ন নিয়ে চুক্তিও করেছে মেটা।
এই প্রকল্প ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় স্কুল জেলায় বাড়তি কর রাজস্বের কারণে শিক্ষকদের জন্য বছরে প্রায় ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিশেষ বোনাস দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিছু শিক্ষকের ক্ষেত্রে এই বোনাস তাদের বার্ষিক বেতনের চেয়েও বেশি হতে পারে।
স্থানীয় এলাকায় নতুন সম্ভাবনা
রিচল্যান্ড প্যারিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রকল্পটি এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষা ও শিল্প খাতে অঞ্চলটির গুরুত্ব বাড়ছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

তবে বড় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা, বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ নিয়ে আলোচনা
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত হারে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। অনেকেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
লুইজিয়ানার এই প্রকল্পও একই ধরনের আলোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















