দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশের কঠোর অভিযানের একদিন পরই আবারও বিক্ষোভস্থলে হাজারো মানুষের সমাগম হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে। সকাল পর্যন্ত যেখানে কয়েকশ মানুষ অবস্থান করছিলেন, সেখানে দিনের শেষে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। বিক্ষোভস্থলের একাধিক প্রবেশপথেও অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
আবার গড়ে উঠল বিক্ষোভ মঞ্চ
সোমবার সন্ধ্যায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বিক্ষোভ মঞ্চ ও বিভিন্ন অস্থায়ী কাঠামোর বড় অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্বেচ্ছাসেবকেরা নতুন করে মঞ্চ ও তাঁবু নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আন্দোলন থামানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
স্লোগান, গান আর সহযোগিতায় মুখর পরিবেশ

বিক্ষোভস্থলে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে মানুষ প্রতিবাদী গান গেয়েছেন, স্লোগান দিয়েছেন এবং বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আন্দোলনের পরিবেশ বজায় রেখেছেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার, পানি, বিস্কুট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। উপস্থিত মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা পুরো আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে।
লাঠিচার্জের অভিজ্ঞতা, তবু ফিরে এলেন
বিহারের বেগুসরাই থেকে আসা এক বিক্ষোভকারী জানান, সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় এবং পরে যন্তর মন্তরে তিনি লাঠিচার্জের মুখে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সাময়িকভাবে এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নেন। গভীর রাতে আবার বিক্ষোভস্থলে ফিরে এসে অবস্থান শুরু করেন। তাঁর কথায়, ভয় থাকলেও আন্দোলন ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ভয় কাটিয়ে অবস্থান অব্যাহত
নয়ডায় কর্মরত এক নারী বিক্ষোভকারী জানান, সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি এবং আন্দোলনকারীদের এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। প্রথমে অনেকেই আতঙ্কিত হলেও কেউ স্থান ত্যাগ করেননি। পরে বাইরে অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলে আরও অনেককে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

পুলিশের পদক্ষেপে নতুনদের অংশগ্রহণ
আগের দিনের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক তরুণ প্রথমবারের মতো আন্দোলনে যোগ দেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের খবর অনুসরণ করছিলেন। তবে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ দেখেই তিনি সরাসরি বিক্ষোভস্থলে আসার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি স্বেচ্ছায় পরিচ্ছন্নতার কাজেও অংশ নেন।
বিরোধী নেতাদের উপস্থিতি
দিনভর বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও বিক্ষোভস্থলে যান এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের উপস্থিতি আন্দোলনকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। এদিকে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















