নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে শহরে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করবেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের আইনি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা তার নেই।
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে মার্ক এ. থিসেন যুক্তি দিয়েছেন, মামদানি যদি এমন উদ্যোগ নিতেন, তাহলে আইনি ঝুঁকিতে পড়তেন তিনি নিজেই, নেতানিয়াহু নন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন কী বলে
নিবন্ধে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকৃতি দেয় না। ২০০২ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া American Servicemembers’ Protection Act অনুযায়ী, কোনো অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারি সংস্থা আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে সহযোগিতা করতে পারে না।
লেখকের মতে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র যদি আইসিসির অনুরোধে নেতানিয়াহুকে আটক করার চেষ্টা করতেন, তবে ফেডারেল আদালত সেই পদক্ষেপ ঠেকাতে আদেশ দিতে পারত। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে আদালত অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও থাকত।

বিদেশি কর্মকর্তাদের সুরক্ষার আইন
থিসেন আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের Protection of Foreign Officials and Official Guests Act বিদেশি রাষ্ট্রনেতা ও আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই আইনের আওতায় কোনো বিদেশি কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে আটক বা আক্রমণের চেষ্টা করলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, যদি কোনো সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী দিয়ে এমন গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হতো, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনের আরও কঠোর বিধান কার্যকর হতে পারত।
এছাড়া, এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রয়োজনে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সংস্থার সহায়তা চাইতে পারেন। একই সঙ্গে American Servicemembers’ Protection Act প্রেসিডেন্টকে আইসিসির অনুরোধে আটক কোনো ব্যক্তিকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও দেয়।
হুমকির প্রশ্নও তুলেছেন লেখক

মার্ক থিসেনের দাবি, শুধু গ্রেপ্তারের চেষ্টা নয়, প্রকাশ্যে এমন হুমকিও আইনি প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তার ব্যাখ্যায়, যদি আদালত মনে করে কোনো বিদেশি কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
আইসিসি নিয়ে সমালোচনা
নিবন্ধে লেখক আইসিসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন। তার ভাষ্য, আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেও ইরান, চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। লেখকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এমন একটি আন্তর্জাতিক আদালতের কর্তৃত্ব মেনে নেবে না, যা যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে বিচারিক ক্ষমতা দাবি করে।
নিবন্ধের উপসংহারে মার্ক থিসেন বলেন, আইসিসির নেতানিয়াহুকে বিচারের এখতিয়ার নেই এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়রেরও তাকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই। তার মতে, আইনি পরামর্শ পাওয়ার পর মামদানির অবস্থান পরিবর্তন করা ছিল বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
মতামত নিবন্ধের লেখক: মার্ক এ. থিসেন
মামদানি নেতানিয়াহু গ্রেপ্তার বিতর্ক
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















