০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে জেলে যেতে হতো তাকেই- মার্ক থিসেন তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান সংঘাতের জেরে ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতা কুপিয়ে নিহত, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে এক নারী চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুর হানা, স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে ১০ কোটি টাকার মালামাল লুট যন্তর-মন্তরের বার্তা: শক্তিশালী সরকার কি তরুণদের কণ্ঠস্বর শুনতে প্রস্তুত? কেন তরুণদের বার্তা উপেক্ষা করা মোদি সরকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নাসিরুদ্দিন শাহর প্রশ্ন: শিক্ষার্থী আন্দোলনে বলিউডের নীরবতা কেন? ইলন মাস্কের ‘ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল’ ওডিসি: নোলানের সিনেমাকে টেক্কা দিতে এআই চলচ্চিত্রের ঘোষণা সৌদি আরবের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের, হুথি হামলায় উদ্বেগ বাড়ল লোহিত সাগরে  কিলার হোয়েলের  বিস্ময়কর আচরণ, মৃত মাছ টুকরো করে উড়িয়ে দিল ‘খেলার ছলে’

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুর হানা, স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে ১০ কোটি টাকার মালামাল লুট

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত তিনটি বিদেশি স্ক্র্যাপ জাহাজে ধারাবাহিক লুটের ঘটনায় অন্তত ১০ কোটি টাকার মালামাল খোয়া গেছে। গত ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে ১৮ দিনের ব্যবধানে এসব ঘটনা ঘটে। ভাঙার জন্য আমদানি করা জাহাজগুলো থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় দস্যুরা। একটি জাহাজ থেকে চুরি হওয়া প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার হলেও ঘটনার ২২ দিন পরও কোনও মামলা হয়নি। সারাক্ষণ রিপোর্ট।

বহির্নোঙরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর জাহাজ মালিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তিন জাহাজে ধারাবাহিক হামলা

বন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জুন রাতে চার্লি অ্যাংকরেজে পৌঁছায় স্ক্র্যাপবাহী এমভি হাই জু। রাতের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দস্যুদল জাহাজে উঠে স্পেয়ার পার্টসসহ প্রায় এক কোটি টাকার সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

পরদিন একই এলাকায় লুটের শিকার হয় এমটি আইরোস নামের আরেকটি জাহাজ। এ জাহাজটি সীতাকুণ্ডের যমুনা শিপ ব্রেকার্স আমদানি করেছিল। দস্যুরা প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মূল্যবান সরঞ্জাম নিয়ে গেলেও পরে পতেঙ্গা থানা পুলিশ কিছু মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

সবশেষ ১৬ জুলাই ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাংকার তাই শুয়েনে জাহাজে হামলা চালানো হয়। দস্যুরা জাহাজের ডেক থেকে মূল্যবান মুরিং রোপ, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে এসব মালামালের মূল্য অন্তত চার কোটি টাকা।

জাহাজ মালিকদের অভিযোগ

জাহাজ মালিকদের দাবি, হামলার সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাপ্টেনরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় দস্যুরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। পরবর্তী আইনি জটিলতার আশঙ্কায় অনেকেই মামলা করতে আগ্রহ দেখাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির শঙ্কা

চট্টগ্রাম চেম্বারের চিঠিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কোনও দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জলসীমায় চুরি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিরাপদ ছিল, যা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতার ফল।

চেম্বারের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ যা বলছে

চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রব জানান, এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। এ ধরনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সাধারণত কোস্ট গার্ড নিয়ে থাকে।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, একটি জাহাজ থেকে চুরি হওয়া মালামাল ১ জুলাই নৌ থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাংলাবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম জানান, স্ক্র্যাপবাহী জাহাজে চুরি প্রতিরোধে তথ্য বিনিময় জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং কোস্ট গার্ডকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি স্ক্র্যাপ জাহাজে দস্যু হামলায় অন্তত ১০ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে জেলে যেতে হতো তাকেই- মার্ক থিসেন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুর হানা, স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে ১০ কোটি টাকার মালামাল লুট

০৩:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত তিনটি বিদেশি স্ক্র্যাপ জাহাজে ধারাবাহিক লুটের ঘটনায় অন্তত ১০ কোটি টাকার মালামাল খোয়া গেছে। গত ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে ১৮ দিনের ব্যবধানে এসব ঘটনা ঘটে। ভাঙার জন্য আমদানি করা জাহাজগুলো থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় দস্যুরা। একটি জাহাজ থেকে চুরি হওয়া প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার হলেও ঘটনার ২২ দিন পরও কোনও মামলা হয়নি। সারাক্ষণ রিপোর্ট।

বহির্নোঙরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর জাহাজ মালিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তিন জাহাজে ধারাবাহিক হামলা

বন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জুন রাতে চার্লি অ্যাংকরেজে পৌঁছায় স্ক্র্যাপবাহী এমভি হাই জু। রাতের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দস্যুদল জাহাজে উঠে স্পেয়ার পার্টসসহ প্রায় এক কোটি টাকার সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

পরদিন একই এলাকায় লুটের শিকার হয় এমটি আইরোস নামের আরেকটি জাহাজ। এ জাহাজটি সীতাকুণ্ডের যমুনা শিপ ব্রেকার্স আমদানি করেছিল। দস্যুরা প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মূল্যবান সরঞ্জাম নিয়ে গেলেও পরে পতেঙ্গা থানা পুলিশ কিছু মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

সবশেষ ১৬ জুলাই ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাংকার তাই শুয়েনে জাহাজে হামলা চালানো হয়। দস্যুরা জাহাজের ডেক থেকে মূল্যবান মুরিং রোপ, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে এসব মালামালের মূল্য অন্তত চার কোটি টাকা।

জাহাজ মালিকদের অভিযোগ

জাহাজ মালিকদের দাবি, হামলার সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাপ্টেনরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় দস্যুরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। পরবর্তী আইনি জটিলতার আশঙ্কায় অনেকেই মামলা করতে আগ্রহ দেখাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির শঙ্কা

চট্টগ্রাম চেম্বারের চিঠিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কোনও দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জলসীমায় চুরি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিরাপদ ছিল, যা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতার ফল।

চেম্বারের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ যা বলছে

চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রব জানান, এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। এ ধরনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সাধারণত কোস্ট গার্ড নিয়ে থাকে।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, একটি জাহাজ থেকে চুরি হওয়া মালামাল ১ জুলাই নৌ থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাংলাবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম জানান, স্ক্র্যাপবাহী জাহাজে চুরি প্রতিরোধে তথ্য বিনিময় জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং কোস্ট গার্ডকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি স্ক্র্যাপ জাহাজে দস্যু হামলায় অন্তত ১০ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।