০৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানে ৩ হাজার ৬১৯ অস্ত্র ও ৪ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি গোলাবারুদ লুট: সেনাপ্রধান শরিফ ওসমান হাদির পরিবারকে দুই কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার রমজান সামনে রেখে সয়াবিন তেল ও সার আমদানিতে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবার পাঁচ লাখ রুপির গণ্ডি ছাড়াল সোনার দাম অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসায় আইসিডিডিআরবির পাশে ইস্পাহানি গ্রুপ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, কেঁপে উঠল দেশ জুড়ে প্রশ্ন আর শোক পাকিস্তানের যুদ্ধপরীক্ষিত যুদ্ধবিমান ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ, অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন গতি না ফেরার দেশে বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের নায়ক ইলিয়াস জাভেদ সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

একটি ছেলের সাধারণ জীবনযাপন

  • Sarakhon Report
  • ০৪:২২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪
  • 111

সারাক্ষণ ডেস্ক

বিকেল হয়ে গেছে। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই গাফফার মঞ্জিল অবস্থিত। তিনি রুমের মেঝেতে তোশকের উপরে কাত হয়ে শুয়ে আছেন। আকরাম আনসারী আজ তিনি ২৪ বছর বয়সে পা দিয়েছেন। মাথার নিচে হাত রেখে ছাদের দিকে তাকিয়ে তিনি চিন্তা করছে, বিশেষ করে তার কলেজ জীবনের দিনগুলোর কথা।

২০১৯ সালে লখনউ ওয়ালা জামিয়ার আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে দিল্লীতে এসেছিলেন। এখানে পড়তে এসে তিনি অনেক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, ও সবগুলো অভিজ্ঞাতা যে সুন্দর ছিল এমনটাও নয়-যেমন একটি সেমিস্টার পরীক্ষার সময় চারটি পত্রে ঝাঁপিয়ে পড়া।

এটি খুব কষ্টদায়ক ছিল। এরকম ঘটনা এর আগে তার সাথে কখনও ঘটেনি। বাবা-মাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেও কোন লাভ হয়নি। আকরাম নিজের মত করে বলেন ,হ্যাঁ ভালো সময় যেমন আছে,তেমনি খারাপ সময়ও এসেছে। এই শহরে থাকতে দুটো অনুভুতিই আমার জীবনে অনেক বড় অবদান রেখেছে।

পরিবার থেকে দূরে থাকা আকরাম দিল্লির রাস্তাগুলো দিয়ে ঘুরতে শুরু করে।সাইকেল চালিয়ে কখনও কখনও ইন্ডিয়ে গেট পর্যন্ত ঘুরতো।এই ঘন ঘন ঘোরাঘুরি তাকে আরও বেশি শহরের মায়ার জড়াতে সাহায্য করে।তিনি বলেন ,আমি এমন জিনিসগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পছন্দ করি যা বিখ্যাত না।

আকরাম সবার থেকে অনেকটা আলাদা,লোধি গার্ডেনের স্মৃতিস্তম্ভ বা পুরোনো দিল্লির কাবাব দিয়ে নিজেকে ক্লান্ত করে না। তিনি খালি রাস্তা, ফাঁকা মুখের বিল্ডিং এবং আশেপাশের দোকানগুলিতে ডবল রুটি এবং আমুল মাখনের জন্য আরও বেশি কৌতূহলী।যদি আমি দিল্লি ছেড়ে চলে গিয়ে আবার অনেক বছর পরে ফিরে আসি তখনও কি এই জায়গাগুলো এরকমই থাকবে,নাকি সবকিছু বদলে যাবে?

দিল্লির পার্থিব দিকগুলো খুঁজে বের করে,আকরাম অনুভব করে যে তিনি নিজের জন্য জিনিসগুলো দেখার একটি উপায় উদ্ঘাটন করে,এবং এর মাধ্যমে তিনি নিজের মধ্যেও অনেক কিছু দেখতে শিখেছে। এ ধরনের ভ্রমণ ও বিভিন্ন জায়গা দেখার তার কোন এজেন্ডা নেই,তার ক্যারিয়ারের সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নেই। আকরাম একজন বিচারক হওয়ার লক্ষ্যে “বিচারিক পরিষেবা পরীক্ষার” জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।তবুও তিনি আশা করেন যে তার সাধারন সাধনা কখনও ছেড়ে দিবেন না।

এদিকে দিন ঘনিয়ে আসছে। আকরাম তার (অষ্টম সেমিস্টার, চতুর্থ বর্ষ, বিএ এলএলবি) এর প্রথমার্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে তার স্বাস্থ্য আইন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। প্রেম ভাইয়ের ক্যাফের হাইজেনিক চা। এসআরকে মসজিদে জোহেরর নামাজ। কাস্ত্রো ক্যাফেতে একাকী দুপুরের “ভেজ থালি” খাবার। মেঝেতে তোশকে দুই ঘন্টা ঘুম। প্রায় যেন একটি অলৌকিক ঘটনার মত।জন্মদিনের ছেলেটির জন্য এই বিশেষ দিনটি একটি নিখুঁত আড্ডা হয়ে উঠেছে যা তিনি সবচেয়ে বেশি লালন করেন।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ

একটি ছেলের সাধারণ জীবনযাপন

০৪:২২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

সারাক্ষণ ডেস্ক

বিকেল হয়ে গেছে। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই গাফফার মঞ্জিল অবস্থিত। তিনি রুমের মেঝেতে তোশকের উপরে কাত হয়ে শুয়ে আছেন। আকরাম আনসারী আজ তিনি ২৪ বছর বয়সে পা দিয়েছেন। মাথার নিচে হাত রেখে ছাদের দিকে তাকিয়ে তিনি চিন্তা করছে, বিশেষ করে তার কলেজ জীবনের দিনগুলোর কথা।

২০১৯ সালে লখনউ ওয়ালা জামিয়ার আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে দিল্লীতে এসেছিলেন। এখানে পড়তে এসে তিনি অনেক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, ও সবগুলো অভিজ্ঞাতা যে সুন্দর ছিল এমনটাও নয়-যেমন একটি সেমিস্টার পরীক্ষার সময় চারটি পত্রে ঝাঁপিয়ে পড়া।

এটি খুব কষ্টদায়ক ছিল। এরকম ঘটনা এর আগে তার সাথে কখনও ঘটেনি। বাবা-মাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেও কোন লাভ হয়নি। আকরাম নিজের মত করে বলেন ,হ্যাঁ ভালো সময় যেমন আছে,তেমনি খারাপ সময়ও এসেছে। এই শহরে থাকতে দুটো অনুভুতিই আমার জীবনে অনেক বড় অবদান রেখেছে।

পরিবার থেকে দূরে থাকা আকরাম দিল্লির রাস্তাগুলো দিয়ে ঘুরতে শুরু করে।সাইকেল চালিয়ে কখনও কখনও ইন্ডিয়ে গেট পর্যন্ত ঘুরতো।এই ঘন ঘন ঘোরাঘুরি তাকে আরও বেশি শহরের মায়ার জড়াতে সাহায্য করে।তিনি বলেন ,আমি এমন জিনিসগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পছন্দ করি যা বিখ্যাত না।

আকরাম সবার থেকে অনেকটা আলাদা,লোধি গার্ডেনের স্মৃতিস্তম্ভ বা পুরোনো দিল্লির কাবাব দিয়ে নিজেকে ক্লান্ত করে না। তিনি খালি রাস্তা, ফাঁকা মুখের বিল্ডিং এবং আশেপাশের দোকানগুলিতে ডবল রুটি এবং আমুল মাখনের জন্য আরও বেশি কৌতূহলী।যদি আমি দিল্লি ছেড়ে চলে গিয়ে আবার অনেক বছর পরে ফিরে আসি তখনও কি এই জায়গাগুলো এরকমই থাকবে,নাকি সবকিছু বদলে যাবে?

দিল্লির পার্থিব দিকগুলো খুঁজে বের করে,আকরাম অনুভব করে যে তিনি নিজের জন্য জিনিসগুলো দেখার একটি উপায় উদ্ঘাটন করে,এবং এর মাধ্যমে তিনি নিজের মধ্যেও অনেক কিছু দেখতে শিখেছে। এ ধরনের ভ্রমণ ও বিভিন্ন জায়গা দেখার তার কোন এজেন্ডা নেই,তার ক্যারিয়ারের সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নেই। আকরাম একজন বিচারক হওয়ার লক্ষ্যে “বিচারিক পরিষেবা পরীক্ষার” জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।তবুও তিনি আশা করেন যে তার সাধারন সাধনা কখনও ছেড়ে দিবেন না।

এদিকে দিন ঘনিয়ে আসছে। আকরাম তার (অষ্টম সেমিস্টার, চতুর্থ বর্ষ, বিএ এলএলবি) এর প্রথমার্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে তার স্বাস্থ্য আইন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। প্রেম ভাইয়ের ক্যাফের হাইজেনিক চা। এসআরকে মসজিদে জোহেরর নামাজ। কাস্ত্রো ক্যাফেতে একাকী দুপুরের “ভেজ থালি” খাবার। মেঝেতে তোশকে দুই ঘন্টা ঘুম। প্রায় যেন একটি অলৌকিক ঘটনার মত।জন্মদিনের ছেলেটির জন্য এই বিশেষ দিনটি একটি নিখুঁত আড্ডা হয়ে উঠেছে যা তিনি সবচেয়ে বেশি লালন করেন।