ভারতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তা ঘিরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নতুন করে আক্রমণ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, দেশজুড়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে সরকার প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে চলে গেছে এবং প্রধানমন্ত্রী সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
সংসদে বিতর্ক এড়ানোর অভিযোগ
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জয়রাম রমেশ বলেন, দেশের পরিস্থিতি যখন দাবি করে, তখন অতীতের প্রধানমন্ত্রীদের মতো সংসদে দাঁড়িয়ে গুরুতর বিতর্কে অংশ নেওয়ার সাহস বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেই।
তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেওয়ার পরিবর্তে সরকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
মোদির ঘোষণাকে ‘চাপের প্রতিফলন’ বলল কংগ্রেস
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কংগ্রেসের দাবি, এই ঘোষণা শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ নয়; বরং বাড়তে থাকা জনচাপের প্রতিক্রিয়া। জয়রাম রমেশের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তাটি দেখিয়েছে যে সরকার চাপের মুখে পড়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।
সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নতুন অভিযোগ
সরকারের সমালোচনা আরও তীব্র করে জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভোট, আসন, অনুদান এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র—সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে দলটি অভিযোগ করেছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যথাযথভাবে মোকাবিলার পরিবর্তে সরকার তা দমনের চেষ্টা করছে। এসব ঘটনার জন্য সরকারের জবাবদিহিও দাবি করছে বিরোধী দলটি।
সরকারের অবস্থান
অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক এবং আইনি নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















