যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। অস্থায়ী বৈশ্বিক আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এবার বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন দ্বি-অঙ্কের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। নতুন এই শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন নতুন শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সে কারণেই নতুন শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষ্য, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং এখন বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই মানদণ্ড অনুসরণের সময় এসেছে।
এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া ১০ শতাংশের অস্থায়ী বৈশ্বিক আমদানি শুল্কের পরিবর্তে নতুন কাঠামো কার্যকর হলো।
নতুন আইনের আওতায় পদক্ষেপ
প্রশাসন এবার বাণিজ্য আইনের একটি ধারার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করছে, যা অন্যায্য বা অযৌক্তিক বাণিজ্যিক আচরণের অভিযোগে শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। ট্রাম্প তাঁর আগের মেয়াদেও একই আইনের ভিত্তিতে চীনের বিভিন্ন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
একই সঙ্গে ১৬টি দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি নীতির বিষয়ে তদন্তও চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, অতিরিক্ত উৎপাদনের মাধ্যমে এসব দেশ মার্কিন উৎপাদনকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। তদন্ত শেষ হলে আরও শুল্ক আরোপের সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভারতের জন্য স্বস্তি
প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে ব্যবস্থা জোরদার করায় ভারতের জন্য নির্ধারিত শুল্ক ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু দেশ তুলনামূলক কম শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে।
যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত
নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত পণ্যও এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।
সমালোচনা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
নতুন শুল্ককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে শুল্কনীতির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্রাজিল এই সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে। দেশটি পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইভাবে চিলিও দাবি করেছে, তাদের শ্রম সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি।
ভোক্তাদের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে আমদানি শুল্ক পরিশোধ করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে অতিরিক্ত ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দামের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। তবে তাদের মতে, যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে শুধু আইন করেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী নীতির কারণে ইতোমধ্যেই ভারতসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের আইন ও নজরদারি জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এ ধরনের মানদণ্ড আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কে ৬০ দেশের পণ্যে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ করা হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও ভোক্তা বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















