ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, কথিত নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো গোপন সমঝোতা হয়নি; বরং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল আলোচনায় তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।
লিখিত আশ্বাসের পর অনশন প্রত্যাহার
ওয়াংচুক জানান, সরকার লিখিতভাবে কয়েকটি বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়ার পরই তিনি অনশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পুলিশি অভিযান হতে পারে। সেই পরিস্থিতি এড়াতে এবং উত্তেজনা প্রশমিত করার লক্ষ্যেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।
তিনি বলেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তিনি আপস করেননি বলেও দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, এই প্রশ্নের রাজনৈতিক পরিণতি সময়ই নির্ধারণ করবে।
আন্দোলন অব্যাহত, আজও কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনায় কয়েকটি দাবির বিষয়ে নীতিগত ইতিবাচক অবস্থান মিলেছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মতো মূল দাবিতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে লিখিত নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তরও চাওয়া হয়েছে।
জন্তর মন্তরে উত্তেজনা, নিরাপত্তা জোরদার
ওয়াংচুকের অনশন শেষ হলেও নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলনের তীব্রতা কমেনি। বিভিন্ন রাজ্য থেকে শিক্ষার্থী, আইনজীবী, কৃষক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে সমবেত হচ্ছেন।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দিল্লি মেট্রোর ১৮টি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ খাবার ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের জবাবদিহি দাবি করা শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী সোমবার আন্দোলনস্থলে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া সিজেপি নেতৃত্বও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
কী নিয়ে এই আন্দোলন
গত ২৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কথিত নিট প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি। আন্দোলনকারীরা আরও দাবি করেছেন, প্রশ্নফাঁস-পরবর্তী আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
ওয়াংচুকের অনশন শেষ হলেও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে কেন্দ্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনার ফলাফলের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















