আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে গুরুতর অসদাচরণ ও দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালতের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালটিতে নতুন প্রধান কৌঁসুলি নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অপসারণ
আদালতের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটাভুটিতে করিম খানকে পদচ্যুত করার প্রস্তাব বিপুল সমর্থন পায়। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর অসদাচরণ এবং দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। এর পরই তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায়।
তবে করিম খান নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীর দাবি, এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ও ন্যায্যতা নিয়ে বিদ্যমান সব আইনি পথ অনুসরণ করে তারা চ্যালেঞ্জ জানাবেন।
নতুন কৌঁসুলি নিয়োগের প্রস্তুতি
করিম খানের অপসারণের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে নতুন কৌঁসুলি নির্বাচনে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের নেতৃত্বে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আদালতের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হলেও সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপের প্রেক্ষাপট
করিম খানের অপসারণ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আদালটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই এর সমালোচনা করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা করিম খানের অপসারণকে স্বাগত জানালেও তাদের অবস্থান হলো, শুধু একজন কর্মকর্তার বিদায়ে আদালত নিয়ে তাদের সামগ্রিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
আদালতের সামনে নতুন পরীক্ষা
আইন বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আস্থা পুনরুদ্ধার করা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ভবিষ্যতের বড় পরীক্ষা হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















