০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ভালোবাসার টানে শহর বদল, বিচ্ছেদের পরও থেকে যাওয়া—শেষ পর্যন্ত বদলে গেল পুরো জীবন  অজান্তেই চারমাত্রিক প্রদর্শনীতে, ‘ওডিসি’ দেখে বিস্ময় আর ভোগান্তিতে দর্শক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? নতুন বিতর্কে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলিকে অপসারণ বিশ্বকাপের বাঁশি বাজে মাঠে, কিন্তু খেলা চলে রাজনীতির অঙ্গনেও বেলুচিস্তানে বিচারক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা পাকিস্তান বার কাউন্সিলের, শোক জানালেন প্রধান বিচারপতি বেলুচিস্তান: শুধু নিরাপত্তা দিয়ে কি একটি সংকটের সমাধান সম্ভব? ডনের সম্পাদকীয়ঃ সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি বেলুচিস্তানে রাষ্ট্র-জনগণের আস্থা পুনর্গঠনই শান্তির একমাত্র পথ ওয়াংচুকের অনশন শেষ, আন্দোলন চলছেই: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আজও কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক সাফদারজং হাসপাতালে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল: ‘মানসিক চাপে মারা গেলে দায় আপনাদের’, বললেন সোনম ওয়াংচুক

সাফদারজং হাসপাতালে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল: ‘মানসিক চাপে মারা গেলে দায় আপনাদের’, বললেন সোনম ওয়াংচুক

শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতাল ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ওয়াংচুক হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ করছেন। তবে এ ঘটনার ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালতের লিখিত নির্দেশ হাতে পৌঁছানোর আগেই তিনি মেদান্তা হাসপাতালে যেতে চেয়েছিলেন বলেই তাঁকে সাময়িকভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।

২৬ দিনের অনশন শেষে প্রকাশ্যে ভিডিও

শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইউটিউব চ্যানেলে দীর্ঘ একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, টানা ২৬ দিনের অনশনের পরও কেন তাঁকে নিজের আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে।

ভিডিওতে তাঁকে নিরাপত্তাকর্মীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হলে যেন সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, অনশনের সময় তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানি করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “মানসিক চাপে যদি আমার মৃত্যু হয়, তার দায় আপনাদেরই নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হচ্ছে এবং এটি এক ধরনের নির্যাতন। দরজা খুলে দিতে এবং প্রয়োজনে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের চ্যালেঞ্জ জানান।

Arrest me if you want, but I am leaving': Sonam Wangchuk releases video  alleging harassment; Safdarjung hospital issues clarification | Delhi News  - The Times of India

মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ

ভিডিওর একপর্যায়ে ওয়াংচুককে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তাঁর সমর্থকেরা পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন। এ সময় তিনি তাঁদের ছবি তুলতে উৎসাহ দেন এবং বলেন, দেখা যাক কে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভিডিওতে এমনও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ধারণকালে একজন সমর্থকের হাত থেকে ফোন নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোকেও ওই সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। মেঝেতে শুয়ে থাকা অবস্থায় ওয়াংচুক বলেন, আদালতের আদেশ সবার জানা এবং সেটি ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বত্র রয়েছে, শুধু উপস্থিত কর্মকর্তারাই তা জানেন না।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২১ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। সেদিনই দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের পরিবারকে জানায় যে তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আদালতের লিখিত নির্দেশ তখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায়নি। সেই কারণে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সাফদারজং হাসপাতালও পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াংচুক সংবাদমাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে পেরে হাসপাতাল ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের কাছে লিখিত আদেশ পৌঁছানোর আগে তাঁকে ছাড়ার সুযোগ ছিল না। হাসপাতালের দাবি, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে লিখিত নির্দেশ পাওয়ার পরপরই তাঁকে মেদান্তা গুরগাঁওয়ের চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Wangchuk Denies Deal with Centre, Says Ended Fast Fearing Crackdown

‘বন্দির মতো রাখা হয়েছিল’

ভিডিওতে ওয়াংচুক আরও বলেন, ১৮ জুলাই তাঁকে সাফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তরের পর বন্দির মতো আচরণ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, অবাধে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি, দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপও রাখতে দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি ছিল যেন তিনি “উত্তর কোরিয়ায়” আছেন। এমনকি হাইকোর্ট স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টা তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনশন প্রত্যাহারের কারণ

ভিডিওতে ওয়াংচুক ব্যাখ্যা করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে লিখিতভাবে এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে আপস করেছেন—এমন সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সে সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

অনশন ভাঙা নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে ওয়াংচুক বলেন, যদি আপসই করতে হতো, তাহলে দিল্লির প্রচণ্ড গরমে ২৬ দিন অনশন না করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই তা করা যেত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালোবাসার টানে শহর বদল, বিচ্ছেদের পরও থেকে যাওয়া—শেষ পর্যন্ত বদলে গেল পুরো জীবন 

সাফদারজং হাসপাতালে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল: ‘মানসিক চাপে মারা গেলে দায় আপনাদের’, বললেন সোনম ওয়াংচুক

০১:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতাল ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ওয়াংচুক হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ করছেন। তবে এ ঘটনার ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালতের লিখিত নির্দেশ হাতে পৌঁছানোর আগেই তিনি মেদান্তা হাসপাতালে যেতে চেয়েছিলেন বলেই তাঁকে সাময়িকভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।

২৬ দিনের অনশন শেষে প্রকাশ্যে ভিডিও

শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইউটিউব চ্যানেলে দীর্ঘ একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, টানা ২৬ দিনের অনশনের পরও কেন তাঁকে নিজের আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে।

ভিডিওতে তাঁকে নিরাপত্তাকর্মীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হলে যেন সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, অনশনের সময় তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানি করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “মানসিক চাপে যদি আমার মৃত্যু হয়, তার দায় আপনাদেরই নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হচ্ছে এবং এটি এক ধরনের নির্যাতন। দরজা খুলে দিতে এবং প্রয়োজনে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের চ্যালেঞ্জ জানান।

Arrest me if you want, but I am leaving': Sonam Wangchuk releases video  alleging harassment; Safdarjung hospital issues clarification | Delhi News  - The Times of India

মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ

ভিডিওর একপর্যায়ে ওয়াংচুককে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তাঁর সমর্থকেরা পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন। এ সময় তিনি তাঁদের ছবি তুলতে উৎসাহ দেন এবং বলেন, দেখা যাক কে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভিডিওতে এমনও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ধারণকালে একজন সমর্থকের হাত থেকে ফোন নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোকেও ওই সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। মেঝেতে শুয়ে থাকা অবস্থায় ওয়াংচুক বলেন, আদালতের আদেশ সবার জানা এবং সেটি ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বত্র রয়েছে, শুধু উপস্থিত কর্মকর্তারাই তা জানেন না।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২১ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। সেদিনই দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের পরিবারকে জানায় যে তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আদালতের লিখিত নির্দেশ তখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায়নি। সেই কারণে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সাফদারজং হাসপাতালও পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াংচুক সংবাদমাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে পেরে হাসপাতাল ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের কাছে লিখিত আদেশ পৌঁছানোর আগে তাঁকে ছাড়ার সুযোগ ছিল না। হাসপাতালের দাবি, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে লিখিত নির্দেশ পাওয়ার পরপরই তাঁকে মেদান্তা গুরগাঁওয়ের চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Wangchuk Denies Deal with Centre, Says Ended Fast Fearing Crackdown

‘বন্দির মতো রাখা হয়েছিল’

ভিডিওতে ওয়াংচুক আরও বলেন, ১৮ জুলাই তাঁকে সাফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তরের পর বন্দির মতো আচরণ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, অবাধে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি, দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপও রাখতে দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি ছিল যেন তিনি “উত্তর কোরিয়ায়” আছেন। এমনকি হাইকোর্ট স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টা তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনশন প্রত্যাহারের কারণ

ভিডিওতে ওয়াংচুক ব্যাখ্যা করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে লিখিতভাবে এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে আপস করেছেন—এমন সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সে সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

অনশন ভাঙা নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে ওয়াংচুক বলেন, যদি আপসই করতে হতো, তাহলে দিল্লির প্রচণ্ড গরমে ২৬ দিন অনশন না করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই তা করা যেত।