০৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
নতুন ‘কমিক’ নকশায় এয়ার জর্ডান ৪, অনলাইনে কিনতে পারবেন আজই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড় এত দ্রুত, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় এর নির্মাতারাও সৌদি আরবের পরমাণু চুক্তিতে বিশ্বজুড়ে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা নির্বাচনের মুখোশ খুলে ফেললে গণতন্ত্রের সামনে যে ভয়াবহ বিপদ অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে নতুন আশার আলো, ওষুধ উদ্ভাবনে আমেরিকার মডেল নিয়ে নতুন আলোচনা ইরানে ফের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত বজ্রপাতের পর কানাডায় ভয়াবহ দাবানল, পুড়েছে ২৯ লাখ হেক্টর বন মেয়ের উচ্চতা বাড়াতে মাসে ৬৬ হাজার টাকা খরচ বাবার, চীনে তুমুল বিতর্ক বাংলাদেশে বছরে পানিতে ডুবে ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু, সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা তালেবানের সাবেক প্রতিপক্ষের সঙ্গে ১৬ বছর পর মুখোমুখি: আফগান যুদ্ধের ক্ষত, অনুতাপ ও ক্ষমার এক বিরল গল্প

আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার: আইসিডিডিআর,বি গবেষণায় উদ্বেগ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-এ চিকিৎসাকালে কঠিন ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আইসিডিডিআর,বি-এর দুটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সময় এসব ব্যাকটেরিয়ামুক্ত থাকা অর্ধেকেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় সংক্রমিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে গবেষণায় উঠে এসেছে, কার্যকর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গুরুতর সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

গবেষণা দুটি সম্প্রতি ‘মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম’ এবং ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড ইনফেকশন কন্ট্রোল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

আইসিইউতে উদ্বেগজনক সংক্রমণ

আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষকেরা জুলাই ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত ঢাকার একটি সরকারি তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ৩৭৩ জন গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক রোগী এবং ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত একই হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি ৩৬৩ নবজাতকের তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণার প্রধান লেখক ও আইসিডিডিআর,বি-এর সহকারী বিজ্ঞানী ড. গাজী মো. সালাহউদ্দিন মামুন জানান, গবেষণায় রোগীদের পুরো চিকিৎসা-সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ এবং পূর্ণ জিনোম অনুক্রম নির্ধারণ প্রযুক্তির মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে কীভাবে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া হাসপাতালের ভেতরে ছড়ায় এবং কীভাবে শরীরে নীরবে থাকা ব্যাকটেরিয়া পরে প্রাণঘাতী সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।

কোন ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা

গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। এতে এমন গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হওয়ায় চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

এসব ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ছিল এসচেরিশিয়া কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়ে, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি এবং সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা। এগুলো নিউমোনিয়া, রক্তের সংক্রমণ, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং ক্ষতের সংক্রমণের মতো গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে।

অর্ধেকের বেশি রোগী হাসপাতালে থেকেই সংক্রমিত

গবেষণায় দেখা যায়, আইসিইউতে ভর্তি হওয়া রোগীদের ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশের অন্ত্রে ইতোমধ্যেই কঠিন ওষুধ-প্রতিরোধী গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া ছিল। যদিও এ অবস্থাকে সরাসরি সংক্রমণ বলা হয় না, তবুও এসব রোগীর পরবর্তীতে অসুস্থ হওয়ার এবং অন্যদের মধ্যে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শুরুতে এসব ব্যাকটেরিয়ামুক্ত থাকা ১৯৮ জন রোগীর মধ্যে ১০৫ জন, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশ, আইসিইউতে থাকার সময় নতুন করে এই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বাহক হয়ে যান। গবেষকদের মতে, এটি হাসপাতালের ভেতরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জীবাণু সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

মৃত্যুহার ছিল অত্যন্ত বেশি

যেসব রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে এসব কঠিন ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিল অত্যন্ত বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন রোগীদের ৯০ শতাংশেরও বেশি আইসিইউতেই মারা যান।

গবেষকদের মতে, সীমিত সম্পদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কার্যকর চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের মতো কারণ এই উচ্চ মৃত্যুহারের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

পূর্ণ জিনোম অনুক্রম নির্ধারণ বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, কিছু রোগীর শরীরে আগে থেকে থাকা একই ব্যাকটেরিয়াই পরবর্তীতে প্রাণঘাতী সংক্রমণের কারণ হয়েছে।

সংক্রমণ প্রতিরোধে আশাব্যঞ্জক ফল

একই গবেষণা দলের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

ঢাকার একটি এনআইসিইউতে পরিচালিত এ গবেষণায় স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হাত পরিষ্কার রাখা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের সঠিক পদ্ধতি। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে সংক্রমণ, মৃত্যুহার এবং কার্বাপেনেম-প্রতিরোধী জীবাণুর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সাত মাসের ধারাবাহিক উদ্যোগের পর রক্তে সংক্রমণের হার প্রতি ১০০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে ২৮ থেকে কমে ৪-এ নেমে আসে, যা ৮৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। একই সময়ে মৃত্যুহারও প্রতি ১০০ জনে ২৬ থেকে কমে ৪-এ নেমে আসে।

দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

আইসিডিডিআর,বি-এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স গবেষণা ইউনিটের প্রধান ড. ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল রোগমুক্তির জায়গা হওয়া উচিত, নতুন প্রাণঘাতী সংক্রমণের উৎস নয়। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে আরও জোর দেওয়া জরুরি।

আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমীদ আহমেদ বলেন, গবেষণার ফলাফল দেখায় যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীরা কঠিন ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন, যার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রমাণ মিলেছে, হাতের পরিচ্ছন্নতা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের স্বাস্থ্যবিধি, নজরদারি এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো মৌলিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার নিয়ে আইসিডিডিআর,বি-এর নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তবে কার্যকর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মৃত্যুহার ও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলেও গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে।

বাংলাদেশের হাসপাতালের আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার নিয়ে আইসিডিডিআর,বি-এর নতুন গবেষণা উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও এতে স্পষ্ট হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ‘কমিক’ নকশায় এয়ার জর্ডান ৪, অনলাইনে কিনতে পারবেন আজই

আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার: আইসিডিডিআর,বি গবেষণায় উদ্বেগ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান

০৭:৪২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-এ চিকিৎসাকালে কঠিন ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আইসিডিডিআর,বি-এর দুটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সময় এসব ব্যাকটেরিয়ামুক্ত থাকা অর্ধেকেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় সংক্রমিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে গবেষণায় উঠে এসেছে, কার্যকর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গুরুতর সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

গবেষণা দুটি সম্প্রতি ‘মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম’ এবং ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড ইনফেকশন কন্ট্রোল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

আইসিইউতে উদ্বেগজনক সংক্রমণ

আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষকেরা জুলাই ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত ঢাকার একটি সরকারি তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ৩৭৩ জন গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক রোগী এবং ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত একই হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি ৩৬৩ নবজাতকের তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণার প্রধান লেখক ও আইসিডিডিআর,বি-এর সহকারী বিজ্ঞানী ড. গাজী মো. সালাহউদ্দিন মামুন জানান, গবেষণায় রোগীদের পুরো চিকিৎসা-সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ এবং পূর্ণ জিনোম অনুক্রম নির্ধারণ প্রযুক্তির মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে কীভাবে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া হাসপাতালের ভেতরে ছড়ায় এবং কীভাবে শরীরে নীরবে থাকা ব্যাকটেরিয়া পরে প্রাণঘাতী সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।

কোন ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা

গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। এতে এমন গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হওয়ায় চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

এসব ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ছিল এসচেরিশিয়া কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়ে, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি এবং সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা। এগুলো নিউমোনিয়া, রক্তের সংক্রমণ, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং ক্ষতের সংক্রমণের মতো গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে।

অর্ধেকের বেশি রোগী হাসপাতালে থেকেই সংক্রমিত

গবেষণায় দেখা যায়, আইসিইউতে ভর্তি হওয়া রোগীদের ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশের অন্ত্রে ইতোমধ্যেই কঠিন ওষুধ-প্রতিরোধী গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া ছিল। যদিও এ অবস্থাকে সরাসরি সংক্রমণ বলা হয় না, তবুও এসব রোগীর পরবর্তীতে অসুস্থ হওয়ার এবং অন্যদের মধ্যে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শুরুতে এসব ব্যাকটেরিয়ামুক্ত থাকা ১৯৮ জন রোগীর মধ্যে ১০৫ জন, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশ, আইসিইউতে থাকার সময় নতুন করে এই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বাহক হয়ে যান। গবেষকদের মতে, এটি হাসপাতালের ভেতরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জীবাণু সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

মৃত্যুহার ছিল অত্যন্ত বেশি

যেসব রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে এসব কঠিন ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিল অত্যন্ত বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন রোগীদের ৯০ শতাংশেরও বেশি আইসিইউতেই মারা যান।

গবেষকদের মতে, সীমিত সম্পদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কার্যকর চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের মতো কারণ এই উচ্চ মৃত্যুহারের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

পূর্ণ জিনোম অনুক্রম নির্ধারণ বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, কিছু রোগীর শরীরে আগে থেকে থাকা একই ব্যাকটেরিয়াই পরবর্তীতে প্রাণঘাতী সংক্রমণের কারণ হয়েছে।

সংক্রমণ প্রতিরোধে আশাব্যঞ্জক ফল

একই গবেষণা দলের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

ঢাকার একটি এনআইসিইউতে পরিচালিত এ গবেষণায় স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হাত পরিষ্কার রাখা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের সঠিক পদ্ধতি। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে সংক্রমণ, মৃত্যুহার এবং কার্বাপেনেম-প্রতিরোধী জীবাণুর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সাত মাসের ধারাবাহিক উদ্যোগের পর রক্তে সংক্রমণের হার প্রতি ১০০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে ২৮ থেকে কমে ৪-এ নেমে আসে, যা ৮৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। একই সময়ে মৃত্যুহারও প্রতি ১০০ জনে ২৬ থেকে কমে ৪-এ নেমে আসে।

দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

আইসিডিডিআর,বি-এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স গবেষণা ইউনিটের প্রধান ড. ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল রোগমুক্তির জায়গা হওয়া উচিত, নতুন প্রাণঘাতী সংক্রমণের উৎস নয়। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে আরও জোর দেওয়া জরুরি।

আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমীদ আহমেদ বলেন, গবেষণার ফলাফল দেখায় যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীরা কঠিন ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন, যার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রমাণ মিলেছে, হাতের পরিচ্ছন্নতা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের স্বাস্থ্যবিধি, নজরদারি এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো মৌলিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার নিয়ে আইসিডিডিআর,বি-এর নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তবে কার্যকর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মৃত্যুহার ও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলেও গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে।

বাংলাদেশের হাসপাতালের আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার নিয়ে আইসিডিডিআর,বি-এর নতুন গবেষণা উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও এতে স্পষ্ট হয়েছে।