বালিতে বিদেশিদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি দৌড় আয়োজনকারী সংগঠনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইন্দোনেশীয়দের বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুমতি ছাড়া দৌড় আয়োজনের অভিযোগে দুই ডাচ নাগরিককে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সারাক্ষণ রিপোর্ট
৩৫ ও ৩৭ বছর বয়সী ওই দুই ডাচ নাগরিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগেই বালি ছেড়ে সিঙ্গাপুরে চলে যান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আর ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
স্থানীয়দের বাদ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ
বিদেশিদের কেন্দ্র করে পরিচালিত ‘এনটুরাজ বালি’ নামের একটি সংগঠনের দৌড় আয়োজনকে ঘিরে বিতর্কের শুরু। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সংগঠনটি ইন্দোনেশীয়দের আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও বিদেশিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে।
এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইন্দোনেশীয় নাম ও স্থানীয় ফোন নম্বর ব্যবহার করায় তার আবেদন গ্রহণে দেরি করা হয়েছিল। অথচ পশ্চিমা নাম ও নম্বর ব্যবহার করা তার স্বামীর আবেদন দ্রুত অনুমোদন করা হয়।
এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বালিতে বিদেশিদের আচরণ নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়। বিশেষ করে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বিদেশিদের জন্য আলাদা সামাজিক পরিবেশ তৈরির অভিযোগটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

অনুমতি ছাড়া আয়োজনের অভিযোগ
ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দুই ডাচ নাগরিক অনুমোদন ছাড়াই দৌড় আয়োজন করেছিলেন। দেশটির অভিবাসন আইনের আওতায় এটিকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়েছে।
বালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বীপটিতে বিদেশিদের অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও কঠোর নজরদারি চলছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিদেশিরা যেন স্থানীয় প্রশাসনের বাইরে আলাদা কোনো ব্যবস্থা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংগঠনের ব্যাখ্যা
অভিযোগের জবাবে এনটুরাজ বালি জানিয়েছে, তাদের দৌড় আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। সংগঠনটির দাবি, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইন্দোনেশীয়রাই সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী এবং মোট টিকিটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের দখলে ছিল।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, তাদের অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণে ইন্দোনেশিয়ার কিছু ফোন নম্বর ভুলভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয়তা নয়, বালিতে থাকা মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্ক তৈরিই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তবে বিতর্কের পর সংগঠনটি আপাতত সব ধরনের আয়োজন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।
বিদেশি ও স্থানীয়দের টানাপোড়েন
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বালি বিদেশি দূরবর্তী কর্মী ও দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হলেও বিদেশিদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা সময় উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে।
দৌড় ক্লাবকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই পুরোনো অসন্তোষকে আবার সামনে এনেছে। বালির গভর্নর ওয়ায়ান কোস্তেরও বলেছেন, এমন ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশি পর্যটক ও দূরবর্তী কর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বালিতে স্থানীয়দের উদ্বেগ যে ক্রমেই বাড়ছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা তারই নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের প্রতি সমান আচরণ এবং বিদেশিদের আইন মেনে চলার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বালি কর্তৃপক্ষ এখন বিদেশিদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে দ্বীপটিতে বিদেশি ও স্থানীয়দের সহাবস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নীতির দেখা মিলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















