যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর আশায় ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সের উত্তর উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা একটি নৌকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, নিরাপদ জীবনের আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নেওয়া অভিবাসীদের জীবন কতটা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
ভোরে উদ্ধার অভিযান
ফরাসি উপকূলরক্ষী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ডানকার্ক উপকূল এলাকা থেকে রাতের অন্ধকারে দ্বিতীয় একটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। স্থানীয় সময় সকাল ছয়টার দিকে উপকূলের একটি প্রতিরোধ বাঁধের কাছাকাছি নৌকাটি শনাক্ত করা হয়।
এরপর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌকার ভেতরে তিনজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। একই অভিযানে আরও একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় চারজনে।
মানবপাচার চক্রকে দায়ী যুক্তরাজ্য
ঘটনার পর যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ইংলিশ চ্যানেলে প্রতিটি মৃত্যু গভীর শোকের বিষয়। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয়, কীভাবে মানবপাচারকারী অপরাধী চক্রগুলো অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের মুনাফার জন্য বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের ভাষ্য, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের এই প্রচেষ্টা শুধু প্রাণহানিই নয়, আন্তর্জাতিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের বিস্তারও বাড়িয়ে তুলছে।
বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সমুদ্রপথ ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অনিয়মিত রুটে পরিণত হয়েছে। অনেক অভিবাসী যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা নিপীড়ন থেকে পালিয়ে নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় এই বিপজ্জনক যাত্রা বেছে নিচ্ছেন।
এ বছরও হাজারো মানুষের আগমন
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ ছোট নৌকায় করে দেশটিতে পৌঁছেছেন।
তবে এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কম। পাশাপাশি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায়ও প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর সীমান্ত নজরদারি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ টহল এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় আগমনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা এখনো বন্ধ হয়নি। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















