ইউক্রেনজুড়ে আবারও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের কাজ চলতে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এক রাতে শত শত আকাশ হামলা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এক রাতেই রাশিয়া ৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৮০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই সমন্বিত হামলায় বিভিন্ন অঞ্চলের আবাসিক এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি জেলেনস্কির জন্মশহরের কাছে

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভিই রিহ এলাকার কাছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বহু সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কিয়েভে আশ্রয় নিল হাজারো মানুষ
রাজধানী কিয়েভেও হামলার আতঙ্কে হাজারো মানুষ মেট্রোর ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বিমান হামলার সতর্কবার্তা দীর্ঘ সময় ধরে জারি ছিল।
নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে
ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট-এর উপপ্রধান সম্পাদক ওলেক্সি সোরোকিন বিবিসিকে বলেন, অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা জানা যাবে না এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি
এই হামলার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আবারও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত স্থাপনা। তবে ইউক্রেনের পক্ষ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক ভবন ও অবকাঠামো রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 















