অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর কারণে সামুদ্রিক পাখির গণমৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অ্যাডিলেডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে প্রায় ৫০টি বৃহৎ ঝুঁটিওয়ালা টার্ন প্রজাতির সামুদ্রিক পাখির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর ভাইরাসটি আরও বিস্তৃতভাবে বন্যপ্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
হেলিকপ্টার নজরদারিতে ধরা পড়ে আক্রান্ত পাখি
অস্ট্রেলিয়ার কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স জানান, কেপ জাফার উপকূলের কাছে শিলাখণ্ডে হেলিকপ্টার পর্যবেক্ষণের সময় ৪৯টি মৃত এবং ৩৫টি অসুস্থ টার্ন পাখি শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, এসব পাখি এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত ছিল।
তিনি বলেন, এখন থেকে আরও বেশি বন্যপ্রাণী আক্রান্ত হতে পারে এবং মৃত প্রাণীর সংখ্যাও বাড়তে পারে। বন্য পরিবেশে একবার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয় না।
এখনো খামারে সংক্রমণের প্রমাণ নেই
সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কোনো পোলট্রি খামারে এইচ৫এন১ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। জুন মাসে প্রথমবার ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই অনেক খামারে কঠোর জীবাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে গৃহপালিত হাঁস-মুরগিকে সুরক্ষিত রাখা যায়।
বর্তমানে দেশটিতে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪। এর মধ্যে অধিকাংশ ঘটনাই দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় হলেও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও কুইন্সল্যান্ডেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বহু বছর ধরেই এইচ৫এন১ ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তারের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আসছিল। খামারে নিরাপত্তা জোরদার, উপকূলীয় পাখির নিয়মিত পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর টিকাদান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়াসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বড় ক্ষতির কারণ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এইচ৫এন১ ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি পাখি ও বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। এতে পোলট্রি খাতে কয়েকশ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুতেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সমুদ্রতটে মৃত পাখি ও সিলের দেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
মানুষের জন্য ঝুঁকি কতটা?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে এইচ৫এন১ ভাইরাস মানুষের শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা এখনো খুবই সীমিত এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অস্ট্রেলিয়া সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বন্যপ্রাণী ও খামার খাতে নজরদারি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















