০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি চুলে রুপালি ঝিলিক, মুকুটে রাজকীয় ছোঁয়া—সুকি ওয়াটারহাউসের নতুন ‘ডিস্কো’ লুক ৫৫ বছর বয়সে নতুন ক্যারিয়ার, ৫৬-তে আকাশে উড়ছেন ক্রেইগ এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর দাবি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দ্বিতীয় পর্বশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও শিক্ষক দিবসে কচি-কাঁচা একাডেমিতে অভিভাবক সভা নতুন মুখ, নতুন অর্থ: মিয়ানমারের বদলে যাওয়া সম্পদের গল্প উজবেকিস্তানে মিলল প্রাচীন অগ্নিবেদির সন্ধান, জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মা হলেই কেন এত বিচার? ‘খারাপ মা’ হওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তেজগাঁওয়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি-সম্পর্কের অভিযোগে আটক ২৩ জনের ১১ জন মুক্ত, ১২ জন আদালতে ভারতে ২০২৭ সালেই আসছে প্রথম ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধে মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ৩০০টিরও বেশি ব্যাংক হিসাব বন্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অর্থপাচারবিরোধী (মানি লন্ডারিং) নীতিমালার আওতায় দীর্ঘ পর্যালোচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবার আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তাদের অর্থপাচার প্রতিরোধকারী বিশেষজ্ঞ দল কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন লেনদেন বিশ্লেষণ করে ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসারে হিসাবগুলো বন্ধ করার সুপারিশ করে।

প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা

এটাই প্রথমবার কোনো ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল যে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাব বন্ধের পেছনে অর্থপাচারবিরোধী পর্যালোচনা ভূমিকা রেখেছিল। তবে ক্যাপিটাল ওয়ান স্পষ্ট করে বলেছে, তারা কখনোই ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে অবৈধ অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেনি।

ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, হিসাব বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও সতর্ক পর্যালোচনার ফল।

Capital One says Trump Organization bank accounts closed after money  laundering probe | LiveNOW from FOX

কী নিয়ে মামলা?

২০২১ সালের মার্চে ক্যাপিটাল ওয়ান ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট ৩০০টিরও বেশি হিসাব বন্ধের নোটিশ দেয়।

এরপর ২০২৫ সালের মার্চে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ব্যাংকের কথিত রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাদের ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করা হয়।

আদালতে ক্যাপিটাল ওয়ানের বক্তব্য

মিয়ামির ফেডারেল আদালত ইতোমধ্যে মামলার দুটি সংস্করণ খারিজ করলেও সংশোধিত অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

সর্বশেষ সংশোধিত অভিযোগের জবাবে ক্যাপিটাল ওয়ান বলেছে, বাদীপক্ষের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালতে জমা দেওয়া নথির কিছু অংশ বেছে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে ব্যাংকটি।

Capital One says it closed over 300 Trump Organization accounts after anti-money  laundering probe | The Independent

ব্যাংকের মতে, যেসব লেনদেন তাদের নজরে আসে, সেগুলোর ধরন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকিং নির্দেশিকায় বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের আওতাভুক্ত কার্যক্রমের সঙ্গে মিল ছিল।

রাজনৈতিক বিতর্কও জোরালো

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।

২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বৈষম্যমূলক কারণে ব্যাংকিং সেবা বন্ধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একই ধরনের অভিযোগে তিনি আরেকটি বড় ব্যাংকের বিরুদ্ধেও মামলা করেন।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালে নিজের প্রথম প্রেসিডেন্সির সময় ট্রাম্প ক্যাপিটাল ওয়ান ও আরেকটি বড় ব্যাংকের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের কাছে আর্থিক নথি হস্তান্তর ঠেকাতে আইনি লড়াই করেছিলেন।

বর্তমান মামলায় আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দেয়, তা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধে মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের

১২:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ৩০০টিরও বেশি ব্যাংক হিসাব বন্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অর্থপাচারবিরোধী (মানি লন্ডারিং) নীতিমালার আওতায় দীর্ঘ পর্যালোচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবার আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তাদের অর্থপাচার প্রতিরোধকারী বিশেষজ্ঞ দল কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন লেনদেন বিশ্লেষণ করে ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসারে হিসাবগুলো বন্ধ করার সুপারিশ করে।

প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা

এটাই প্রথমবার কোনো ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল যে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাব বন্ধের পেছনে অর্থপাচারবিরোধী পর্যালোচনা ভূমিকা রেখেছিল। তবে ক্যাপিটাল ওয়ান স্পষ্ট করে বলেছে, তারা কখনোই ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে অবৈধ অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেনি।

ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, হিসাব বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও সতর্ক পর্যালোচনার ফল।

Capital One says Trump Organization bank accounts closed after money  laundering probe | LiveNOW from FOX

কী নিয়ে মামলা?

২০২১ সালের মার্চে ক্যাপিটাল ওয়ান ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট ৩০০টিরও বেশি হিসাব বন্ধের নোটিশ দেয়।

এরপর ২০২৫ সালের মার্চে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ব্যাংকের কথিত রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাদের ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করা হয়।

আদালতে ক্যাপিটাল ওয়ানের বক্তব্য

মিয়ামির ফেডারেল আদালত ইতোমধ্যে মামলার দুটি সংস্করণ খারিজ করলেও সংশোধিত অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

সর্বশেষ সংশোধিত অভিযোগের জবাবে ক্যাপিটাল ওয়ান বলেছে, বাদীপক্ষের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালতে জমা দেওয়া নথির কিছু অংশ বেছে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে ব্যাংকটি।

Capital One says it closed over 300 Trump Organization accounts after anti-money  laundering probe | The Independent

ব্যাংকের মতে, যেসব লেনদেন তাদের নজরে আসে, সেগুলোর ধরন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকিং নির্দেশিকায় বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের আওতাভুক্ত কার্যক্রমের সঙ্গে মিল ছিল।

রাজনৈতিক বিতর্কও জোরালো

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।

২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বৈষম্যমূলক কারণে ব্যাংকিং সেবা বন্ধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একই ধরনের অভিযোগে তিনি আরেকটি বড় ব্যাংকের বিরুদ্ধেও মামলা করেন।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালে নিজের প্রথম প্রেসিডেন্সির সময় ট্রাম্প ক্যাপিটাল ওয়ান ও আরেকটি বড় ব্যাংকের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের কাছে আর্থিক নথি হস্তান্তর ঠেকাতে আইনি লড়াই করেছিলেন।

বর্তমান মামলায় আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দেয়, তা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।