রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। হামলায় দেশটির বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদাম, তেল শোধনাগার, সামরিক বিমানঘাঁটি এবং অন্যান্য স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পর উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে।
সীমান্ত এলাকায় হতাহত
রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ জানান, একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন খেলার মাঠের পাশের এলাকায় আঘাত হানলে এক শিশু নিহত এবং দুইজন আহত হয়। পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই অঞ্চলে পৃথক হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।
উদমুর্তিয়া অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ওলগা আব্রামোভা।
ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে আগুন
সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন লাগে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
ইউক্রেনের সাম্প্রতিক কৌশলের অংশ হিসেবে রাশিয়ার অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বড় বড় বাণিজ্যিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সারাতভ ও এঙ্গেলসে হামলা
প্রতিবেশী সারাতভ অঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় দুইজন নিহত হন। গভর্নর রোমান বুসারগিন জানান, এঙ্গেলস ও সারাতভ—দুই শহরেই বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এঙ্গেলসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি এবং সারাতভে বড় তেল শোধনাগার রয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা সারাতভের তেল শোধনাগার, এঙ্গেলস বিমানঘাঁটি এবং কালুগা অঞ্চলের একটি তেল সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
শত শত ড্রোন ভূপাতিতের দাবি
![]()
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ৬৩৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলেও শিল্প স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইউক্রেনে রুশ হামলাও অব্যাহত
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ইউক্রেনের মিকোলাইভ বন্দরের অবকাঠামো, সামরিক মালামাল বহনকারী দুটি জাহাজ এবং কৃষ্ণসাগরে থাকা আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, রুশ গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই দুই পক্ষ সীমান্তের অনেক ভেতরে অবস্থিত সামরিক, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর ফলে উভয় দেশেই বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর হামলার সংখ্যা বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















