০৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে প্রশান্ত কিশোরের অগ্রগতি, ‘এটাই শেষের শুরু’—বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ

বিহারের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্যাংকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনা। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিরোধী দলগুলো এই ফলাফলের প্রবণতাকে বিজেপির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে তুলে ধরছে, যদিও ভোটগণনা তখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।

বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য ও জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, ব্যাংকিপুরের এই ফলাফল শুধু একটি উপনির্বাচনের হিসাব নয়, বরং বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

‘এটাই শেষের শুরু’—ডেরেকের বার্তা

ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় লেখেন, ব্যাংকিপুরে বিজেপির পিছিয়ে পড়া ‘শেষের শুরুর’ ইঙ্গিত বহন করছে। তিনি ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এক বিধায়ককে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানো, সেই কারণে আসন শূন্য হওয়া, প্রার্থী পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত উপনির্বাচনে পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তাঁর মতে, একটি দীর্ঘদিনের নিরাপদ আসনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া বিজেপির জন্য মোটেই স্বস্তির নয়।

ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে প্রশান্ত কিশোর

ভোটগণনার সর্বশেষ পর্যায়ে প্রশান্ত কিশোর ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

চূড়ান্ত ফল তখনও ঘোষণা না হলেও এই ব্যবধান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কারণ, ব্যাংকিপুর শুধু একটি সাধারণ বিধানসভা আসন নয়; এটি বহু বছর ধরে বিজেপির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিপুর?

ব্যাংকিপুর আসন গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সদ্য রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়া এবং পরে দলের জাতীয় সভাপতি হওয়া নীতিন নবীন দীর্ঘ প্রায় দুই দশক এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর আগে তাঁর বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহাও একাধিকবার এখান থেকে নির্বাচিত হন।

নীতিন নবীন রাজ্যসভায় যাওয়ার পর তাঁর বিধায়ক পদ শূন্য হওয়ায় এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ফলে এই আসনের ফলাফলকে শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল হিসেবে নয়, বরং বিহারের রাজনৈতিক প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রার্থী বদলে চাপে পড়ে বিজেপি

নির্বাচনের শুরু থেকেই বিজেপিকে কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রথমে অভিষেক কুমার সিনহাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও পরে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এরপর বিজেপি নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল রেখা কুমারীকে প্রার্থী দেয় এবং জন সুরাজ পার্টির পক্ষে নিজেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন প্রশান্ত কিশোর। ফলে এই আসনটি শুরু থেকেই জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সময়ে বিহারের রাজনীতিতে একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে সাফল্য পেলেও পরে নেতৃত্বে পরিবর্তন, রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিপুরের ফলাফলকে অনেক বিশ্লেষক ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জন সুরাজ কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

তবে ভোটগণনা সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কত দাঁড়ায় এবং এই উপনির্বাচনের ফল বিহারের বৃহত্তর রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে প্রশান্ত কিশোরের অগ্রগতি, ‘এটাই শেষের শুরু’—বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ

০৬:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বিহারের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্যাংকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনা। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিরোধী দলগুলো এই ফলাফলের প্রবণতাকে বিজেপির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে তুলে ধরছে, যদিও ভোটগণনা তখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।

বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য ও জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, ব্যাংকিপুরের এই ফলাফল শুধু একটি উপনির্বাচনের হিসাব নয়, বরং বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

‘এটাই শেষের শুরু’—ডেরেকের বার্তা

ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় লেখেন, ব্যাংকিপুরে বিজেপির পিছিয়ে পড়া ‘শেষের শুরুর’ ইঙ্গিত বহন করছে। তিনি ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এক বিধায়ককে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানো, সেই কারণে আসন শূন্য হওয়া, প্রার্থী পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত উপনির্বাচনে পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তাঁর মতে, একটি দীর্ঘদিনের নিরাপদ আসনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া বিজেপির জন্য মোটেই স্বস্তির নয়।

ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে প্রশান্ত কিশোর

ভোটগণনার সর্বশেষ পর্যায়ে প্রশান্ত কিশোর ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

চূড়ান্ত ফল তখনও ঘোষণা না হলেও এই ব্যবধান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কারণ, ব্যাংকিপুর শুধু একটি সাধারণ বিধানসভা আসন নয়; এটি বহু বছর ধরে বিজেপির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিপুর?

ব্যাংকিপুর আসন গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সদ্য রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়া এবং পরে দলের জাতীয় সভাপতি হওয়া নীতিন নবীন দীর্ঘ প্রায় দুই দশক এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর আগে তাঁর বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহাও একাধিকবার এখান থেকে নির্বাচিত হন।

নীতিন নবীন রাজ্যসভায় যাওয়ার পর তাঁর বিধায়ক পদ শূন্য হওয়ায় এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ফলে এই আসনের ফলাফলকে শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল হিসেবে নয়, বরং বিহারের রাজনৈতিক প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রার্থী বদলে চাপে পড়ে বিজেপি

নির্বাচনের শুরু থেকেই বিজেপিকে কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রথমে অভিষেক কুমার সিনহাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও পরে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এরপর বিজেপি নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল রেখা কুমারীকে প্রার্থী দেয় এবং জন সুরাজ পার্টির পক্ষে নিজেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন প্রশান্ত কিশোর। ফলে এই আসনটি শুরু থেকেই জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সময়ে বিহারের রাজনীতিতে একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে সাফল্য পেলেও পরে নেতৃত্বে পরিবর্তন, রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিপুরের ফলাফলকে অনেক বিশ্লেষক ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জন সুরাজ কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

তবে ভোটগণনা সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কত দাঁড়ায় এবং এই উপনির্বাচনের ফল বিহারের বৃহত্তর রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।