মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের এক চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে, দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নাম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প নিজেই সামাজিক মাধ্যমে এ সম্মানের কথা জানালেও মরক্কো সরকার তখন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এবার রাজপ্রাসাদের প্রকাশিত চিঠিতে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
চিঠিতে রাজা মোহাম্মদ লিখেছেন, এটি তাঁর পক্ষ থেকে ট্রাম্পের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। আগে এই সড়কের নাম ছিল তিজনিত–দাখলা মহাসড়ক। প্রায় এক হাজার ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক মরক্কোর উত্তরাঞ্চলকে পশ্চিম সাহারা হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
পশ্চিম সাহারা ইস্যুই মূল কারণ
রাজা তাঁর চিঠিতে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়। এর বিনিময়ে মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছিল।
রাজা বলেন, ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্ত মরক্কোর জনগণের স্মৃতিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অম্লান থাকবে। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের সম্পর্ক ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই সবচেয়ে শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ অবস্থানে পৌঁছেছে।
বিতর্কিত অঞ্চল পশ্চিম সাহারা
পশ্চিম সাহারা দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকার অন্যতম জটিল রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্র। একসময় এটি স্পেনের উপনিবেশ ছিল। বর্তমানে অঞ্চলটির অধিকাংশ অংশ মরক্কোর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই করা পলিসারিও ফ্রন্ট কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।
জাতিসংঘ পশ্চিম সাহারাকে এখনো স্বশাসনবিহীন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে। বহু বছর ধরে সেখানে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আহ্বান জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে আফ্রিকান ইউনিয়ন পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্য ও স্পেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প মহাসড়কের নামকরণকে সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই দীর্ঘ মহাসড়কটি একদিন পুরোটা ভ্রমণ করার আশা রাখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি মহাসড়কের নাম পরিবর্তনের ঘটনাটি শুধু প্রতীকী সম্মান নয়; এটি পশ্চিম সাহারা প্রশ্নে মরক্কো-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















