০৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
রাজবাড়ীতে বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, একই পরিবারের চার সদস্যসহ আহত ৮ শেখ হাসিনা ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে: এনসিপির নাহিদ ইসলামের বক্তব্য গ্যাস সংকট তীব্র: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, রপ্তানি ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে নগরজীবন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় ইতিবাচক বাংলাদেশ, সব সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় স্বার্থে পাবনার যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্র, চলছে যৌথ উদ্ধার অভিযান বারবার শহর বদলানোর জীবন: গভীর শিকড় নয়, বিস্তৃত অভিজ্ঞতাই তার পরিচয় জেন জেড: পরিচয়ের নয়, মানসিকতার নতুন রাজনৈতিক শক্তি ভারতে জ্বালানি ব্যবহারে বড় উল্লম্ফন, এলপিজি চাহিদায় পতন পজিতানোর চেয়েও মুগ্ধকর ইতালির ছোট্ট শহর মিনোরি, যেখানে মিলবে আসল আমালফি উপকূলের স্বাদ

মাকে হারাতে চাননি, তাই চার বছর ফ্রিজে লাশ লুকিয়ে রাখলেন ছেলে! পরে ফাঁস হলো কোটি টাকার কাছাকাছি ভাতা জালিয়াতি

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের পোর্থকলে এক হৃদয়বিদারক এবং একই সঙ্গে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিজের মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে এক ব্যক্তি বছরের পর বছর তাঁর মরদেহ বাড়ির ডাইনিং রুমের ফ্রিজারে লুকিয়ে রেখেছিলেন। একই সময়ে মৃত মায়ের নামে সরকারি ভাতা ও পেনশনের অর্থও তুলতে থাকেন তিনি।

আদালতে জানানো হয়, সিলভিয়া ফিলিপস ২০২১ সালে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে ২৬ বার এবং ২০২২ সালে আরও ছয়বার চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে শেষবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা যায়। দুই দিন পর একজন চিকিৎসক বাড়িতে গেলেও এরপর আর তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি।

তদন্তে উঠে আসে, সিলভিয়ার ছেলে ক্রিস্টোফার ফিলিপস মায়ের মৃত্যুর খবর গোপন রেখেছিলেন। তিনি নিয়মিত তাঁর মায়ের ব্যবহৃত ওষুধ সংগ্রহ করতেন এবং চিকিৎসকদের জানাতেন যে তাঁর মা হাসপাতালে যেতে চান না বা রক্ত পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই। এর মাধ্যমে তিনি এমন ধারণা তৈরি করেন যে তাঁর মা এখনও জীবিত।

মায়ের মৃত্যু গোপন থাকার কারণে ক্রিস্টোফার মোট ৭৮ হাজার ১৯০ পাউন্ডেরও বেশি সরকারি সহায়তা, পেনশন, উপস্থিতি ভাতা, শীতকালীন জ্বালানি সহায়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় সহায়তা এবং আবাসন সুবিধা গ্রহণ করেন। অথচ মৃত্যুর খবর জানানো হলে এসব অর্থ প্রদান অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত।

আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় তাঁর আইনজীবী জানান, পুলিশের কাছে ক্রিস্টোফার বলেছেন, “আমি আসলে তাঁকে ছেড়ে দিতে পারিনি।” তিনি নাকি প্রতিদিন মায়ের মরদেহের পাশে বসে আগের মতোই টেলিভিশনের অনুষ্ঠান, জনপ্রিয় ধারাবাহিক এবং ঘোড়দৌড় নিয়ে কথা বলতেন। আইনজীবীর ভাষ্য, ক্রিস্টোফার একজন মানসিকভাবে দুর্বল ব্যক্তি।

তবে বিচারক বলেন, এটি কেবল শোকের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করেছেন এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সবাইকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেছেন যে তাঁর মা এখনও জীবিত। বিচারক আরও বলেন, তিনি চিকিৎসাকর্মী ও পরে পুলিশকেও বিভ্রান্ত করেছেন এবং মৃত ব্যক্তির নামে ওষুধ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার, একাকীত্ব, মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট এবং মৃত্যুর পর আইনি দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

মাকে হারানোর শোক, মানসিক ভেঙে পড়া এবং আর্থিক প্রতারণা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মাকে হারাতে না পেরে বছরের পর বছর মরদেহ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার ঘটনা ও সরকারি ভাতা জালিয়াতির এই মামলাটি যুক্তরাজ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজবাড়ীতে বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, একই পরিবারের চার সদস্যসহ আহত ৮

মাকে হারাতে চাননি, তাই চার বছর ফ্রিজে লাশ লুকিয়ে রাখলেন ছেলে! পরে ফাঁস হলো কোটি টাকার কাছাকাছি ভাতা জালিয়াতি

০৮:২২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের পোর্থকলে এক হৃদয়বিদারক এবং একই সঙ্গে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিজের মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে এক ব্যক্তি বছরের পর বছর তাঁর মরদেহ বাড়ির ডাইনিং রুমের ফ্রিজারে লুকিয়ে রেখেছিলেন। একই সময়ে মৃত মায়ের নামে সরকারি ভাতা ও পেনশনের অর্থও তুলতে থাকেন তিনি।

আদালতে জানানো হয়, সিলভিয়া ফিলিপস ২০২১ সালে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে ২৬ বার এবং ২০২২ সালে আরও ছয়বার চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে শেষবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা যায়। দুই দিন পর একজন চিকিৎসক বাড়িতে গেলেও এরপর আর তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি।

তদন্তে উঠে আসে, সিলভিয়ার ছেলে ক্রিস্টোফার ফিলিপস মায়ের মৃত্যুর খবর গোপন রেখেছিলেন। তিনি নিয়মিত তাঁর মায়ের ব্যবহৃত ওষুধ সংগ্রহ করতেন এবং চিকিৎসকদের জানাতেন যে তাঁর মা হাসপাতালে যেতে চান না বা রক্ত পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই। এর মাধ্যমে তিনি এমন ধারণা তৈরি করেন যে তাঁর মা এখনও জীবিত।

মায়ের মৃত্যু গোপন থাকার কারণে ক্রিস্টোফার মোট ৭৮ হাজার ১৯০ পাউন্ডেরও বেশি সরকারি সহায়তা, পেনশন, উপস্থিতি ভাতা, শীতকালীন জ্বালানি সহায়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় সহায়তা এবং আবাসন সুবিধা গ্রহণ করেন। অথচ মৃত্যুর খবর জানানো হলে এসব অর্থ প্রদান অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত।

আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় তাঁর আইনজীবী জানান, পুলিশের কাছে ক্রিস্টোফার বলেছেন, “আমি আসলে তাঁকে ছেড়ে দিতে পারিনি।” তিনি নাকি প্রতিদিন মায়ের মরদেহের পাশে বসে আগের মতোই টেলিভিশনের অনুষ্ঠান, জনপ্রিয় ধারাবাহিক এবং ঘোড়দৌড় নিয়ে কথা বলতেন। আইনজীবীর ভাষ্য, ক্রিস্টোফার একজন মানসিকভাবে দুর্বল ব্যক্তি।

তবে বিচারক বলেন, এটি কেবল শোকের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করেছেন এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সবাইকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেছেন যে তাঁর মা এখনও জীবিত। বিচারক আরও বলেন, তিনি চিকিৎসাকর্মী ও পরে পুলিশকেও বিভ্রান্ত করেছেন এবং মৃত ব্যক্তির নামে ওষুধ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার, একাকীত্ব, মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট এবং মৃত্যুর পর আইনি দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

মাকে হারানোর শোক, মানসিক ভেঙে পড়া এবং আর্থিক প্রতারণা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মাকে হারাতে না পেরে বছরের পর বছর মরদেহ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার ঘটনা ও সরকারি ভাতা জালিয়াতির এই মামলাটি যুক্তরাজ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।