যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের শার্লটে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একজনকে হত্যা এবং আরেকজনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি দেশটির অপরাধ দমন ও জামিন নীতি নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অভিযুক্ত ২৯ বছর বয়সী ডেভিড সিম্পসন। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাতের উদ্দেশ্যে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে বিনা জামিনে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
মুক্তির পরই রক্তাক্ত হামলা
আদালতের নথি অনুযায়ী, অন্য একটি অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় ১০ হাজার ডলারের জামিনে সিম্পসনকে গভীর রাতে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একটি আবাসিক এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত ব্যক্তি অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পার্কিং নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষ
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, একটি পার্কিং স্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। ঘটনার আগে একই রাতে ওই এলাকায় পার্কিং নিয়ে একাধিকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশও সেখানে গিয়েছিল।
নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত প্রথমে নিজের বাসায় প্রবেশ করেন। পরে একটি ভারী ব্যাগ হাতে নিয়ে বাইরে বের হন এবং ভুক্তভোগীদের দিকে এগিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে তাকে আবার নিজের বাসার দিকে ফিরে যেতে এবং সেখান থেকে গাড়িতে চলে যেতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থল থেকে রাইফেলের ব্যবহৃত দুটি খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুরোনো অপরাধের ইতিহাস
আদালতের নথিতে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিম্পসনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছিল। পরে তিনি স্বেচ্ছাকৃত হত্যার দায় স্বীকার করলে কয়েক বছর কারাভোগের পর ২০২০ সালে প্যারোলে মুক্তি পান।
মুক্তির পরও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। চলতি বছরও তার বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়া এবং চুরির অভিযোগ বিচারাধীন ছিল।
কেন তিনি মুক্ত ছিলেন?
ঘটনার পর আইনজীবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন, সহিংস অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেন।
স্থানীয় এক আইনজীবীর মতে, অভিযুক্তের অপরাধের ধারাবাহিকতা বিচার করলে তিনি আগেই কারাগারে থাকার কথা ছিল। অন্যদিকে এক সাবেক জনপ্রতিনিধি বলেন, বারবার অপরাধে জড়ানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
ঘটনার পর অভিযুক্তকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম শুনানিতে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানালে পরে বিচারকের নির্দেশে তাকে হাজির করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পর তাকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে তার বান্ধবীর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। আগামী ২১ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















