ভারত মহাসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে ১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া বার্ট্রিস পম্পে ছিলেন শেষ দিকের সেই চাগোসবাসীদের একজন, যাদের পরিবারকে শিগগিরই নিজ ভূমি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। আজ তিনি লন্ডনে বসবাস করলেও নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের দাবিতে অন্যতম পরিচিত কণ্ঠস্বর।
বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অসংখ্য পরিবার
পম্পে জানান, দ্বীপ ছাড়ার সময় বহু পরিবার স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কেউ চলে যায় সেশেলসে, কেউ মরিশাসে। ভাই-বোন, মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনের অনেকেই আর কখনও একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
তার ভাষায়, সেশেলসে বেড়ে ওঠার সময় চাগোসবাসীরা নিজেদের সব সময় আলাদা ও প্রান্তিক হিসেবে অনুভব করতেন।
কেন উচ্ছেদ করা হয়েছিল চাগোসবাসীদের
মরিশাস স্বাধীন হওয়ার আগে, ১৯৬৮ সালে ব্রিটিশ সরকার চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে মরিশাসের প্রশাসনিক সীমানা থেকে পৃথক করে। এরপর ব্রিটিশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল গঠন করা হয়।
ষাটের দশকের শেষ ভাগ এবং সত্তরের দশকের শুরুতে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ার পুরো জনসংখ্যাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ।
২০২৫ সালের চুক্তি নিয়েও আপত্তি
পম্পে ২০২৫ সালের সেই চুক্তিরও বিরোধিতা করছেন, যার মাধ্যমে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে চুক্তিতে যুক্তরাজ্যকে দিয়েগো গার্সিয়ার সামরিক ঘাঁটি ৯৯ বছরের জন্য ইজারায় রাখার সুযোগ দেওয়া হয়, যার বিনিময়ে মরিশাস বিপুল অঙ্কের অর্থ পাবে।

পম্পের মতে, এই চুক্তি চাগোসবাসীদের মতামত ও তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।
চাগোস ইস্যু এখন শুধু বাস্তুচ্যুত মানুষের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়; এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সামরিক কৌশল এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলের ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়েও পরিণত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















