সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে ঘিরে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। নিচে সেসবের সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরা হলো।
- নতুন শুল্ক আরোপ
২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ প্রায় ৬০টি অর্থনীতির ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করে। এই তালিকায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলিও ছিল। অস্থায়ী ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। - কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যবধান কমছে
জুন মাসে চীনের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল উন্মোচনের পর বিশ্লেষকদের ধারণা, এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত এগিয়ে থাকার ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিশেষ করে মুনশট এআই ও আলিবাবার নতুন মডেল ওয়াশিংটনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
- বর্ণবাদ বৃদ্ধির আশঙ্কা
এশীয়-আমেরিকান বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও চীন-সমালোচক অনেকেই ওই বক্তব্যের সমর্থন করেছেন। - নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই
সম্প্রতি প্রকাশিত গোপন নথিতে দেখা যায়, চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ বিপুল পরিমাণ মার্কিন ভোটারের তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা অর্জন করেছিল। তবে নথিগুলোতে ট্রাম্পের এই দাবি সমর্থনের মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে চীন ২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে বা ২২ কোটি ভোটারের তথ্য চুরি করেছিল। - গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সিনেটকে জানান, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও পর্যাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পাচ্ছে না। একই সময়ে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে অর্থনৈতিক সমঝোতা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
- মঙ্গলগ্রহে ‘ঝাল ক্রেফিশ স্যুপ’ বিতর্ক
একজন চীনা গবেষকের ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মহাকাশচারীদের জন্য ঝাল ক্রেফিশ স্যুপ পরিবেশনের কল্পনা মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এটি চীনের বৈজ্ঞানিক ও মহাকাশ গবেষণার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। - জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, চীন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিজেদের উপস্থিতিকে বিভিন্ন দেশের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। এ নিয়ে কংগ্রেসের শুনানিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা যায়।
এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা এখন শুধু বাণিজ্য বা প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নির্বাচন, কূটনীতি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 





















