১২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভে রক্তপাত, ‘অধিকার চেয়েছিলাম, গুলি পেলাম’ অভিযোগ ট্রাম্পের নতুন শুল্কে আইনি লড়াই, ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নিশানায় তেল জায়ান্টরা, জ্বালানির দাম কমানোর দাবি যমুনার স্রোতে নিখোঁজ দুই কিশোর, পাবনায় চলছে উদ্ধার অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসাপ্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ আনতে বলল মার্কিন দূতাবাস এক দফা দাবির আগে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি আবদুল কাদেরের যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ার মূল্য দিচ্ছে জর্ডান, ইরান যুদ্ধে বাড়ছে চাপ ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক, যৌথ হস্তক্ষেপে শক্তিশালী হলো ইয়েন হরমুজকে কেন্দ্র করে নতুন চাপের কৌশল: সামরিক সংঘাতের বদলে অর্থনৈতিক চাপেই যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিতে বাধ্য করতে চায় ইরান কঠোর শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অভিভাবকদের জয়, ভেঙে যাচ্ছে স্কুল পরিচালনা ট্রাস্ট

সিলিকন ভ্যালির লবিং কি যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কে নতুন অবিশ্বাস তৈরি করছে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পের ক্রমবর্ধমান চীনবিরোধী অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু বিশ্লেষক। তাদের মতে, সিলিকন ভ্যালির শক্তিশালী লবিং কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিলিকন ভ্যালি আগের তুলনায় অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী উদ্যোক্তারা এখন শুধু ব্যবসায় নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এদের মধ্যে অন্যতম ইলন মাস্ক, যিনি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায় বিপুল অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন।

প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্ধপরিবাহী, উন্নত কম্পিউটিং এবং অন্যান্য কৌশলগত প্রযুক্তিকে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

Fable of the Mythos saga: Ad hoc US AI model controls could help China |  PIIE

এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি খাতের লবিং আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীনের সামাজিক বিজ্ঞান একাডেমির তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত জার্নাল অব কনটেম্পোরারি এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজ-এ গত মাসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের লবিস্টরা পরিকল্পিতভাবে “চীন হুমকি” ধারণাকে তাদের নীতিগত প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের প্রচারণা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণেই প্রভাব ফেলছে না, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা যদি ক্রমেই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি কোম্পানি ও তাদের লবিং কার্যক্রম ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

China calls for building up consensus with US after 'candid' trade talks |  Reuters

সিলিকন ভ্যালির রাজনৈতিক প্রভাব এবং চীনকে ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ আগামী দিনে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সেই প্রশ্নও আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।

চীনের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের লবিং, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—এই তিনটি বিষয় এখন ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভে রক্তপাত, ‘অধিকার চেয়েছিলাম, গুলি পেলাম’ অভিযোগ

সিলিকন ভ্যালির লবিং কি যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কে নতুন অবিশ্বাস তৈরি করছে?

১০:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পের ক্রমবর্ধমান চীনবিরোধী অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু বিশ্লেষক। তাদের মতে, সিলিকন ভ্যালির শক্তিশালী লবিং কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিলিকন ভ্যালি আগের তুলনায় অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী উদ্যোক্তারা এখন শুধু ব্যবসায় নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এদের মধ্যে অন্যতম ইলন মাস্ক, যিনি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায় বিপুল অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন।

প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্ধপরিবাহী, উন্নত কম্পিউটিং এবং অন্যান্য কৌশলগত প্রযুক্তিকে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

Fable of the Mythos saga: Ad hoc US AI model controls could help China |  PIIE

এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি খাতের লবিং আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীনের সামাজিক বিজ্ঞান একাডেমির তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত জার্নাল অব কনটেম্পোরারি এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজ-এ গত মাসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের লবিস্টরা পরিকল্পিতভাবে “চীন হুমকি” ধারণাকে তাদের নীতিগত প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের প্রচারণা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণেই প্রভাব ফেলছে না, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা যদি ক্রমেই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি কোম্পানি ও তাদের লবিং কার্যক্রম ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

China calls for building up consensus with US after 'candid' trade talks |  Reuters

সিলিকন ভ্যালির রাজনৈতিক প্রভাব এবং চীনকে ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ আগামী দিনে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সেই প্রশ্নও আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।

চীনের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের লবিং, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—এই তিনটি বিষয় এখন ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।