যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা নতুন আমদানি শুল্ককে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আইনবিরোধী, অযৌক্তিক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।
জুলাই মাসে কার্যকর হওয়া এই শুল্ক বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর প্রযোজ্য হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, ব্রাজিল ও তাইওয়ানসহ আরও অনেক দেশ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই কারণেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর জোট বলেছে, প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের মতে, আরোপিত শুল্ক এতটাই বিস্তৃত যে এটি সংশ্লিষ্ট আইনের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, এই শুল্ক কার্যত সাধারণ ভোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমজীবী মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

হোয়াইট হাউসের অবস্থান
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইনসম্মত ক্ষমতার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, বিদেশি দেশগুলো যদি জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে তা মার্কিন ব্যবসার জন্য অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি করে। তাই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শুল্কের আওতায় প্রায় সব আমদানি
এই শুল্ক ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের একটি ধারার আওতায় আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কের আওতায় দেশটির মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ চলে এসেছে।
রাজ্যগুলোর কড়া সমালোচনা
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেছেন, এই শুল্ক বিদেশি সরকারের ওপর নয়, বরং পরিশ্রমী মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ডের অভিযোগ, এই নীতির মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে, বিদেশি সরকারকে নয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
শুল্কের আওতায় পড়া কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ব্রাজিল ও জাপান এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অভিযোগ করেছে, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের প্রশ্ন, একটি দেশ কীভাবে প্রমাণ করবে যে তারা জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করেছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট মানদণ্ড নেই।
আগের রায়ের পরও নতুন শুল্ক
২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প একের পর এক নতুন বাণিজ্যনীতি ঘোষণা করেছেন। এর আগে তাঁর ঘোষিত ব্যাপক শুল্কের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের ফলে বহু প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা শুল্ক বাবদ কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হয়েছিল।
এরপর প্রশাসন সাময়িকভাবে সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, যার মেয়াদ জুলাইয়ে শেষ হয়। এখন নতুন এই শুল্ক নিয়ে আবারও আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তদন্ত চলায় ভবিষ্যতে নতুন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















