পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে আরও ভাঙন নিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার এনসিপিআইয়ের (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া) সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল ছেড়ে নতুন দলে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের সঙ্গে এটি হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক শুধু উন্নয়নমূলক আলোচনা নয়, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
উন্নয়ন ও ঘরছাড়া কর্মীদের বিষয় আলোচনায়
এনসিপিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে বিভিন্ন লোকসভা এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি সরকার পরিবর্তনের পর যেসব দলীয় কর্মী এখনও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি, তাঁদের নিরাপদে পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। দলটির নেতাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে অনেক কর্মী এখনও নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন এবং তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জরুরি।
এনডিএর সঙ্গে সম্পর্ক আরও স্পষ্ট
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদ প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় শাসক জোটের অংশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি তাঁরা জোটের সংসদীয় বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে দলটির অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরও দলবদলের গুঞ্জন
রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কালীঘাট ঘরানার আরও কয়েকজন নেতা দল ছাড়তে পারেন। আলোচনায় রয়েছে দুইজন লোকসভা সদস্যের নামও। গত লোকসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পেলেও পরবর্তী সময়ে একের পর এক দলত্যাগে তৃণমূলের সংসদীয় শক্তি অনেকটাই কমে গেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

চাপের অভিযোগ তৃণমূলের
তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন, প্রশাসনিক ও পুলিশি চাপের কারণেই দলবদলের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে বিরোধী শিবিরে থাকা বেশ কয়েকজন বিধায়কও আবার তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং আগামী দিনে আরও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
জব্দ ব্যাংক হিসাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
এদিকে তৃণমূলের তিনটি জব্দ ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, একটি রাজনৈতিক দলের দৈনন্দিন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই তদন্তকারী সংস্থা বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, ব্যাংক হিসাব জব্দের বৈধতা নিয়ে যে মূল মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেই বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করা হবে না। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দলবদল, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মঙ্গলবারের বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















