ভারত পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপকে ‘সম্পূর্ণ প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে পাকিস্তান অঞ্চলটিতে চলমান দমন-পীড়ন ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযানের বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তথাকথিত স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে পিওকের বাস্তব পরিস্থিতি ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, সেখানে জনবিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনাই প্রকৃত চিত্র।
দমন-পীড়নের অভিযোগ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, চলতি বছরের জুন মাস থেকে পিওকে এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৯০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেক মানুষ আহত হয়েছেন।
রণধীর জয়সওয়াল অভিযোগ করেন, জনঅসন্তোষের জবাবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দমনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তার দাবি, এখন সেই পরিস্থিতিকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নির্বাচনী আয়োজন ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাকিস্তানকে এসব ঘটনার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত এবং মানবাধিকার নিয়ে তাদের বক্তব্যের আড়ালে প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

পিওকে-তে অস্থিরতার পটভূমি
ভারতের এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য এবং স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছে।
জেএএসির অভিযোগ, রাওয়ালাকোটে শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে বাধা দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। অন্যদিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, জেএএসি-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র ব্যক্তিরাই প্রথমে পুলিশের ওপর হামলা চালায়, যার পর নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থা নেয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এক ধাপে হওয়ার কথা থাকা নির্বাচন তিন ধাপে আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৭ জুলাই এবং শেষ ধাপের ভোট ১০ আগস্ট হওয়ার কথা রয়েছে।
আফগানিস্তান প্রসঙ্গেও পাকিস্তানকে জবাব
সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও জবাব দেয় ভারত।
পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন এবং কাবুলের নয়াদিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এর জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ ধরনের মন্তব্য ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ঘিরে পাকিস্তানের অনিরাপত্তাবোধেরই প্রতিফলন।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য সংবাদ সম্মেলন
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে সম্ভাব্য সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কেও প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ওই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে।
এর আগে ঢাকা থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির কাজে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















