১২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি চুলে রুপালি ঝিলিক, মুকুটে রাজকীয় ছোঁয়া—সুকি ওয়াটারহাউসের নতুন ‘ডিস্কো’ লুক ৫৫ বছর বয়সে নতুন ক্যারিয়ার, ৫৬-তে আকাশে উড়ছেন ক্রেইগ এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর দাবি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দ্বিতীয় পর্বশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও শিক্ষক দিবসে কচি-কাঁচা একাডেমিতে অভিভাবক সভা নতুন মুখ, নতুন অর্থ: মিয়ানমারের বদলে যাওয়া সম্পদের গল্প উজবেকিস্তানে মিলল প্রাচীন অগ্নিবেদির সন্ধান, জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মা হলেই কেন এত বিচার? ‘খারাপ মা’ হওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তেজগাঁওয়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি-সম্পর্কের অভিযোগে আটক ২৩ জনের ১১ জন মুক্ত, ১২ জন আদালতে ভারতে ২০২৭ সালেই আসছে প্রথম ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’

কংগ্রেসের ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ মন্তব্যে মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক ঝড়, ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা এনসিপি

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে নিয়ে কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ (নীরব পুতুল) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের ওই পোস্টের জবাবে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রশ্ন তুলেছে, তাহলে কি কংগ্রেস এখন সেই সমালোচনাকেই পরোক্ষভাবে সমর্থন করছে, যা একসময় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধেও করা হয়েছিল?

বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিড জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকরা সুনেত্রা পাওয়ারের কাছে প্রশ্ন করতে চাইলে এনসিপি নেতা ধনঞ্জয় মুন্ডে মাঝপথে সংবাদ সম্মেলন শেষ ঘোষণা করেন। এরপর সুনেত্রা পাওয়ার কোনো উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

এই ভিডিও শেয়ার করে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখে, “সুনেত্রা পাওয়ার আর কতদিন ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ হয়ে থাকবেন?”

ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির জবাব

কংগ্রেসের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির মুখপাত্র উমেশ পাটিল বলেন, কংগ্রেস যেন নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাসই ভুলে গেছে। তাঁর প্রশ্ন, “তাহলে কি কংগ্রেস এখন পরোক্ষভাবে স্বীকার করছে যে, একসময় ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে করা একই ধরনের সমালোচনা যথার্থ ছিল?”

তিনি বলেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও নারীদের অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ কোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই শোভন নয়।

উমেশ পাটিল আরও বলেন, ইন্দিরা গান্ধী তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকার কারণে তিনি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পান।

এনসিপির বিধায়ক সানা মালিকও বলেন, ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়েও অতীতে একই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, আর তখন কংগ্রেসই তার বিরোধিতা করেছিল।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ শব্দবন্ধটি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি যুক্ত ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে। সমাজতান্ত্রিক নেতা রাম মনোহর লোহিয়া ১৯৬০-এর দশকে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে অনভিজ্ঞ ও নীরব নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে এই শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।

Congress targets Sunetra Pawar with 'gungi gudiya' barb; NCP hits back-  Moneycontrol.com

শিন্দে ও ফড়নবিশের সমালোচনা

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দেও কংগ্রেসের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে আক্রমণ করা শুধু সুনেত্রা পাওয়ারকেই নয়, রাজ্যের সব নারীকে অপমান করার শামিল।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন, মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কখনোই নিম্নমানের মন্তব্য করে প্রচার পাওয়ার রাজনীতি সমর্থন করে না।

ধনঞ্জয় মুন্ডের প্রতিক্রিয়া

সাবেক মন্ত্রী ধনঞ্জয় মুন্ডে দাবি করেন, সুনেত্রা পাওয়ারের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় কংগ্রেস অস্বস্তিতে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “আগামী দিনে সুনেত্রা পাওয়ারের কাজই সমালোচনার জবাব দেবে। তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলেই কংগ্রেস তাঁকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য করেছে।”

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে যে ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছে, তা হতাশাজনক।

কেন ভাইরাল হলো ভিডিওটি

ভিডিওটি ধারণ করা হয় বিড জেলায় এক সংবাদ সম্মেলনের সময়। ওই সময় সাংবাদিকরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সুনেত্রা পাওয়ারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছিলেন।

সুনেত্রা পাওয়ার বর্তমানে বিড জেলার অভিভাবক মন্ত্রী। এই জেলায় ধনঞ্জয় মুন্ডের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ওয়ালমিক কারাড স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সন্তোষ দেশমুখ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। সাংবাদিকের প্রশ্নের মাঝেই ধনঞ্জয় মুন্ডে সংবাদ সম্মেলন শেষ ঘোষণা করলে সুনেত্রা পাওয়ার কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন। এরপরই কংগ্রেস তাঁকে ‘নীরব’ বলে আক্রমণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়, যা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

কংগ্রেসের ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ মন্তব্য ঘিরে মহারাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা জবাব দিয়েছে এনসিপি।

জনপ্রিয় সংবাদ

গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি

কংগ্রেসের ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ মন্তব্যে মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক ঝড়, ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা এনসিপি

০৮:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে নিয়ে কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ (নীরব পুতুল) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের ওই পোস্টের জবাবে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রশ্ন তুলেছে, তাহলে কি কংগ্রেস এখন সেই সমালোচনাকেই পরোক্ষভাবে সমর্থন করছে, যা একসময় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধেও করা হয়েছিল?

বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিড জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকরা সুনেত্রা পাওয়ারের কাছে প্রশ্ন করতে চাইলে এনসিপি নেতা ধনঞ্জয় মুন্ডে মাঝপথে সংবাদ সম্মেলন শেষ ঘোষণা করেন। এরপর সুনেত্রা পাওয়ার কোনো উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

এই ভিডিও শেয়ার করে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখে, “সুনেত্রা পাওয়ার আর কতদিন ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ হয়ে থাকবেন?”

ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির জবাব

কংগ্রেসের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির মুখপাত্র উমেশ পাটিল বলেন, কংগ্রেস যেন নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাসই ভুলে গেছে। তাঁর প্রশ্ন, “তাহলে কি কংগ্রেস এখন পরোক্ষভাবে স্বীকার করছে যে, একসময় ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে করা একই ধরনের সমালোচনা যথার্থ ছিল?”

তিনি বলেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও নারীদের অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ কোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই শোভন নয়।

উমেশ পাটিল আরও বলেন, ইন্দিরা গান্ধী তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকার কারণে তিনি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পান।

এনসিপির বিধায়ক সানা মালিকও বলেন, ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়েও অতীতে একই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, আর তখন কংগ্রেসই তার বিরোধিতা করেছিল।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ শব্দবন্ধটি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি যুক্ত ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে। সমাজতান্ত্রিক নেতা রাম মনোহর লোহিয়া ১৯৬০-এর দশকে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে অনভিজ্ঞ ও নীরব নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে এই শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।

Congress targets Sunetra Pawar with 'gungi gudiya' barb; NCP hits back-  Moneycontrol.com

শিন্দে ও ফড়নবিশের সমালোচনা

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দেও কংগ্রেসের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে আক্রমণ করা শুধু সুনেত্রা পাওয়ারকেই নয়, রাজ্যের সব নারীকে অপমান করার শামিল।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন, মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কখনোই নিম্নমানের মন্তব্য করে প্রচার পাওয়ার রাজনীতি সমর্থন করে না।

ধনঞ্জয় মুন্ডের প্রতিক্রিয়া

সাবেক মন্ত্রী ধনঞ্জয় মুন্ডে দাবি করেন, সুনেত্রা পাওয়ারের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় কংগ্রেস অস্বস্তিতে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “আগামী দিনে সুনেত্রা পাওয়ারের কাজই সমালোচনার জবাব দেবে। তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলেই কংগ্রেস তাঁকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য করেছে।”

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে যে ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছে, তা হতাশাজনক।

কেন ভাইরাল হলো ভিডিওটি

ভিডিওটি ধারণ করা হয় বিড জেলায় এক সংবাদ সম্মেলনের সময়। ওই সময় সাংবাদিকরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সুনেত্রা পাওয়ারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছিলেন।

সুনেত্রা পাওয়ার বর্তমানে বিড জেলার অভিভাবক মন্ত্রী। এই জেলায় ধনঞ্জয় মুন্ডের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ওয়ালমিক কারাড স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সন্তোষ দেশমুখ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। সাংবাদিকের প্রশ্নের মাঝেই ধনঞ্জয় মুন্ডে সংবাদ সম্মেলন শেষ ঘোষণা করলে সুনেত্রা পাওয়ার কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন। এরপরই কংগ্রেস তাঁকে ‘নীরব’ বলে আক্রমণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়, যা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

কংগ্রেসের ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ মন্তব্য ঘিরে মহারাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা জবাব দিয়েছে এনসিপি।