১২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর জীবন সংকটে, ওল্ডহামের সার্জনকে চিকিৎসা পেশা থেকে বহিষ্কার চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে স্পেসএক্সের রকেট, তৈরি হতে পারে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য অ্যারন রজার্সের বিস্ফোরক অভিযোগ, ডায়ানা রুসিনি-মাইক ভ্রাবেল কাণ্ডে এনএফএল নীতির প্রশ্ন ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ, বাড়ছে উদ্বেগ ইবোলা আতঙ্কে হাসপাতালে যাচ্ছেন না গর্ভবতী নারীরা, কঙ্গোতে বাড়ছে মাতৃমৃত্যু গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে নতুন জটিলতা, স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় হামাস ট্রাম্প বলছেন আলোচনা চলছে, ইরানের দাবি—কোনো বৈঠকই হচ্ছে না বছরের পর বছর অপেক্ষার পর ফিরছে টিভি সিরিজ, দর্শকের ধৈর্যের পরীক্ষা অভিনয় থেকে গানে স্টর্ম রিডের নতুন পরিচয়, এবার সামনে আসছে তাঁর অন্য এক রূপ মুখ নয়, এবার হাত! তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন সৌন্দর্য প্রবণতায় বাড়ছে হাতের যত্ন

রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর চাপের পথে যুক্তরাষ্ট্র, তবে নতুন বিল ঘিরে বিতর্কও বাড়ছে

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বিল এগিয়ে গেছে। বিলটির উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কোর অর্থনীতি, জ্বালানি খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা। তবে বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া বিস্তৃত ক্ষমতা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার অর্থনীতি লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ

প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব, রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগী বিদেশি কোম্পানি এবং বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে সেইসব জাহাজ ও নেটওয়ার্কের দিকে, যেগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছায়।

Russian Sanctions on Iron and Steel EU and UK Differences

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়তে পারে চাপ

বিল অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রুশ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে নতুন করে ঝুঁকি বিবেচনা করবে।

বিতর্কের কেন্দ্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, এতে প্রেসিডেন্টকে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করা বা স্থগিত রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এতে আইনের কঠোরতা অনেকটাই নির্ভর করবে হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

আরও একটি বিতর্কিত প্রস্তাব হলো, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস বড় পরিসরে আমদানি করে এমন দেশগুলোর ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভারত, চীনসহ আরও কয়েকটি বড় অর্থনীতি প্রভাবিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Trump's 500% Tariffs Against India, China and Brazil, and the Venezuela Oil  Issue: Analysis - RUSSIA'S PIVOT TO ASIA

মিত্র দেশগুলোর ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা শুধু রাশিয়ার সহযোগীদের বিরুদ্ধেই নয়, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হতে পারে। এতে নতুন বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাদের মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো জরুরি হলেও সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

প্রতিনিধি পরিষদের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

এখন বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। সেখানে কিছু ধারা পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে বিতর্কিত শুল্কসংক্রান্ত বিধান বাদ দেওয়া এবং রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ইউক্রেনের পুনর্গঠনে ব্যবহারের প্রস্তাব যুক্ত করার পক্ষে মত দিচ্ছেন অনেক আইনপ্রণেতা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বিলটির চূড়ান্ত রূপ এবং ভবিষ্যতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশল কতটা কঠোর হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর জীবন সংকটে, ওল্ডহামের সার্জনকে চিকিৎসা পেশা থেকে বহিষ্কার

রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর চাপের পথে যুক্তরাষ্ট্র, তবে নতুন বিল ঘিরে বিতর্কও বাড়ছে

১০:৪০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বিল এগিয়ে গেছে। বিলটির উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কোর অর্থনীতি, জ্বালানি খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা। তবে বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া বিস্তৃত ক্ষমতা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার অর্থনীতি লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ

প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব, রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগী বিদেশি কোম্পানি এবং বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে সেইসব জাহাজ ও নেটওয়ার্কের দিকে, যেগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছায়।

Russian Sanctions on Iron and Steel EU and UK Differences

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়তে পারে চাপ

বিল অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রুশ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে নতুন করে ঝুঁকি বিবেচনা করবে।

বিতর্কের কেন্দ্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, এতে প্রেসিডেন্টকে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করা বা স্থগিত রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এতে আইনের কঠোরতা অনেকটাই নির্ভর করবে হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

আরও একটি বিতর্কিত প্রস্তাব হলো, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস বড় পরিসরে আমদানি করে এমন দেশগুলোর ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভারত, চীনসহ আরও কয়েকটি বড় অর্থনীতি প্রভাবিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Trump's 500% Tariffs Against India, China and Brazil, and the Venezuela Oil  Issue: Analysis - RUSSIA'S PIVOT TO ASIA

মিত্র দেশগুলোর ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা শুধু রাশিয়ার সহযোগীদের বিরুদ্ধেই নয়, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হতে পারে। এতে নতুন বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাদের মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো জরুরি হলেও সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

প্রতিনিধি পরিষদের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

এখন বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। সেখানে কিছু ধারা পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে বিতর্কিত শুল্কসংক্রান্ত বিধান বাদ দেওয়া এবং রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ইউক্রেনের পুনর্গঠনে ব্যবহারের প্রস্তাব যুক্ত করার পক্ষে মত দিচ্ছেন অনেক আইনপ্রণেতা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বিলটির চূড়ান্ত রূপ এবং ভবিষ্যতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশল কতটা কঠোর হবে।