১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি চুলে রুপালি ঝিলিক, মুকুটে রাজকীয় ছোঁয়া—সুকি ওয়াটারহাউসের নতুন ‘ডিস্কো’ লুক ৫৫ বছর বয়সে নতুন ক্যারিয়ার, ৫৬-তে আকাশে উড়ছেন ক্রেইগ এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর দাবি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দ্বিতীয় পর্বশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও শিক্ষক দিবসে কচি-কাঁচা একাডেমিতে অভিভাবক সভা নতুন মুখ, নতুন অর্থ: মিয়ানমারের বদলে যাওয়া সম্পদের গল্প উজবেকিস্তানে মিলল প্রাচীন অগ্নিবেদির সন্ধান, জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মা হলেই কেন এত বিচার? ‘খারাপ মা’ হওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তেজগাঁওয়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি-সম্পর্কের অভিযোগে আটক ২৩ জনের ১১ জন মুক্ত, ১২ জন আদালতে ভারতে ২০২৭ সালেই আসছে প্রথম ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’

যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে, দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার উচ্চ-নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে দেশটির সামরিক প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতে সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

প্রায় শেষ হয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র

সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যুদ্ধ চলাকালে প্রায় সব আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র এক মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দামের এবং নিরাপদ দূরত্ব থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রেও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। নতুন প্রজন্মের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ধীরে ধীরে পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্রের জায়গা নিচ্ছে।

দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

President Donald J. Trump

যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করেছিলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হবে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরও কমে গেলে ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।

একজন কর্মকর্তা অবশ্য জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গুদাম থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র এনে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের ভিন্ন দাবি

মজুত কমে যাওয়ার খবরের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার এখনও অনেক বড়। তাঁর ভাষ্য, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিহাসের সর্বোচ্চ গতিতে নতুন গোলাবারুদ তৈরি করছে এবং উৎপাদন সক্ষমতাও দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।

অন্যদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্রও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা রয়েছে এবং বিশ্বের যেকোনো স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করতে তারা প্রস্তুত।

ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্পের দিকে যেতে হতে পারে

US has used 'virtually all' of its long-range precision missiles during  Iran war

বিশ্লেষকদের মতে, নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কমে গেলে ভবিষ্যতে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে সরাসরি বোমা হামলার মতো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ঝুঁকি কমাতে এবং পাইলটদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাম্প্রতিক সময়ে এসব ক্ষেপণাস্ত্র বেশি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুতও কমছে

শুধু আক্রমণাত্মক অস্ত্র নয়, প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৬৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। একই সময়ে থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় অর্ধেকও যুদ্ধ চলাকালে ব্যবহৃত হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক বাড়ছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও কেন এখন পর্যন্ত যুদ্ধ ঘোষণার প্রস্তাব বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়নি।

Iran conflict strains US missile stockpiles: New report raises concerns over  future war readiness | Today News

জনপ্রিয় সংবাদ

গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে, দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

১২:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার উচ্চ-নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে দেশটির সামরিক প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতে সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

প্রায় শেষ হয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র

সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যুদ্ধ চলাকালে প্রায় সব আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র এক মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দামের এবং নিরাপদ দূরত্ব থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রেও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। নতুন প্রজন্মের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ধীরে ধীরে পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্রের জায়গা নিচ্ছে।

দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

President Donald J. Trump

যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করেছিলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হবে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরও কমে গেলে ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।

একজন কর্মকর্তা অবশ্য জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গুদাম থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র এনে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের ভিন্ন দাবি

মজুত কমে যাওয়ার খবরের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার এখনও অনেক বড়। তাঁর ভাষ্য, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিহাসের সর্বোচ্চ গতিতে নতুন গোলাবারুদ তৈরি করছে এবং উৎপাদন সক্ষমতাও দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।

অন্যদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্রও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা রয়েছে এবং বিশ্বের যেকোনো স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করতে তারা প্রস্তুত।

ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্পের দিকে যেতে হতে পারে

US has used 'virtually all' of its long-range precision missiles during  Iran war

বিশ্লেষকদের মতে, নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কমে গেলে ভবিষ্যতে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে সরাসরি বোমা হামলার মতো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ঝুঁকি কমাতে এবং পাইলটদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাম্প্রতিক সময়ে এসব ক্ষেপণাস্ত্র বেশি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুতও কমছে

শুধু আক্রমণাত্মক অস্ত্র নয়, প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৬৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। একই সময়ে থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় অর্ধেকও যুদ্ধ চলাকালে ব্যবহৃত হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক বাড়ছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও কেন এখন পর্যন্ত যুদ্ধ ঘোষণার প্রস্তাব বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়নি।

Iran conflict strains US missile stockpiles: New report raises concerns over  future war readiness | Today News