ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন শুরু করেছে। এই ইউনিটে প্রায় ৯০ জন সদস্য রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের হাতে ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি উৎক্ষেপণযন্ত্র দেওয়া হতে পারে। ইউক্রেনের আশঙ্কা, এগুলো ব্যবহার করে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে।
সামরিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি, উত্তর কোরিয়ার এই ইউনিটকে রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে অবস্থান করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে ৪০টি উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট জনবলও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত মোতায়েনের ধরন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা আগামী মাসের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর নির্ধারিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তবে এটি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত বহন করবে। এর আগে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় চাপ বাড়ার শঙ্কা
ইউক্রেন বর্তমানে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকটে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়লে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়ে যাবে।
বিশেষ করে আসন্ন শীতকালে রাশিয়া যদি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও ব্যাপক হামলা চালায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
দাবি যাচাই করা যায়নি
ইউক্রেনের গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেছেন, এই তথ্য গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করে।
ইউক্রেনের দাবি, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে এবং কয়েক হাজার সেনাও পাঠিয়েছে। গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া আরও প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার তৈরি এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা ও বিস্ফোরক বহনক্ষমতা রাশিয়ার সমজাতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি হলেও এগুলোর লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতা তুলনামূলক কম। এর ফলে বেসামরিক এলাকায় প্রাণহানির ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
ইউক্রেনের দাবি, গত সপ্তাহে একটি উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় একটি আবাসিক বাড়ি ধ্বংস হয়ে একই পরিবারের অন্তত পাঁচজন নিহত হন। তাদের মতে, এটি নতুন পাঠানো ক্ষেপণাস্ত্রের চালানের অংশ হতে পারে।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হলে ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে নতুন প্রভাব পড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। তবে এসব দাবির বেশ কয়েকটি বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















