০২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
ব্যথার চিকিৎসা নাকি ভয়ের রাজনীতি: ওপিওয়েড নিয়ে নীতিনির্ধারণে ভারসাম্য কোথায়? সুনামগঞ্জে আকস্মিক গ্যাস সংকট: রান্নাঘর থেকে সিএনজি স্টেশন—চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী রুমিন ফারহানা: ‘প্রত্যেক মানুষের হাতেই গণমাধ্যম, শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনতে চাইলে শুনতে পারবেন’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উভয় পক্ষের আহত; ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র ঘিরে হট্টগোল তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে, লালমনিরহাটের নিচু এলাকায় পানি ঢুকছে ব্রিটিশ ওপেনে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ এখনো ধীরে ধীরে উপলব্ধি করছেন কুওয়াকি এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ, পরীক্ষায় বাস্তব ওয়েবসাইটে অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ গাজা পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়নি ইসরায়েল, জানালেন নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা: আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকার পাঁচ মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধ হচ্ছে

ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা: আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকার পাঁচ মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধ হচ্ছে

ব্যয় কমানো এবং বিদেশে পরিচালিত কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে আফ্রিকা, এশিয়া ও পশ্চিম গোলার্ধের পাঁচটি ছোট মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রেনাডায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, জাপানের নাগোয়ায় কনস্যুলেট, ইন্দোনেশিয়ার মেদানে কনস্যুলেট, কানাডার উইনিপেগে আমেরিকান প্রেজেন্স পোস্ট এবং ক্যামেরুনের দৌয়ালায় অবস্থিত দূতাবাসের একটি শাখা কার্যালয় বন্ধ করা হবে।

ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্য

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এসব কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করা হলে বছরে প্রায় ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে। কংগ্রেসে পাঠানো নোটিশে এই ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাব্য হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

Trump administration will close 5 smaller US consulates in Africa, Asia and  the Western Hemisphere - AOL

যেসব মিশন বন্ধ করা হচ্ছে, সেগুলো জনবল ও কার্যক্রমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে ছোট। গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেসে অবস্থিত দূতাবাস এবং জাপানের নাগোয়ার কনস্যুলেটে একজন করে মার্কিন কূটনীতিক এবং পাঁচজন স্থানীয় কর্মী রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার মেদান কনস্যুলেটে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা ও ৪৭ জন স্থানীয় কর্মী কর্মরত আছেন। কানাডার উইনিপেগের আমেরিকান প্রেজেন্স পোস্টে রয়েছেন দুজন স্থানীয় কর্মী। ক্যামেরুনের দৌয়ালার শাখা কার্যালয়ে কাজ করছেন ১৪ জন স্থানীয় কর্মী।

পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতা

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এই কনস্যুলেটটি আফগানিস্তানের সবচেয়ে কাছের মার্কিন কূটনৈতিক মিশন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।

US State Department to close consulates in Canada, Japan and Indonesia,  sources say | Reuters

পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন করে এসব মিশন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

যেখানে বন্ধ, সেখানেই নতুন করে উপস্থিতি

একদিকে কয়েকটি ছোট কূটনৈতিক মিশন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া দেশগুলোতে আবারও কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিরিয়ার দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের শাসকদের অপসারণের পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ইতোমধ্যে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতিকে নতুন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের কৌশল অনুসরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যথার চিকিৎসা নাকি ভয়ের রাজনীতি: ওপিওয়েড নিয়ে নীতিনির্ধারণে ভারসাম্য কোথায়?

ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা: আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকার পাঁচ মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধ হচ্ছে

০১:২১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ব্যয় কমানো এবং বিদেশে পরিচালিত কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে আফ্রিকা, এশিয়া ও পশ্চিম গোলার্ধের পাঁচটি ছোট মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রেনাডায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, জাপানের নাগোয়ায় কনস্যুলেট, ইন্দোনেশিয়ার মেদানে কনস্যুলেট, কানাডার উইনিপেগে আমেরিকান প্রেজেন্স পোস্ট এবং ক্যামেরুনের দৌয়ালায় অবস্থিত দূতাবাসের একটি শাখা কার্যালয় বন্ধ করা হবে।

ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্য

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এসব কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করা হলে বছরে প্রায় ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে। কংগ্রেসে পাঠানো নোটিশে এই ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাব্য হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

Trump administration will close 5 smaller US consulates in Africa, Asia and  the Western Hemisphere - AOL

যেসব মিশন বন্ধ করা হচ্ছে, সেগুলো জনবল ও কার্যক্রমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে ছোট। গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেসে অবস্থিত দূতাবাস এবং জাপানের নাগোয়ার কনস্যুলেটে একজন করে মার্কিন কূটনীতিক এবং পাঁচজন স্থানীয় কর্মী রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার মেদান কনস্যুলেটে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা ও ৪৭ জন স্থানীয় কর্মী কর্মরত আছেন। কানাডার উইনিপেগের আমেরিকান প্রেজেন্স পোস্টে রয়েছেন দুজন স্থানীয় কর্মী। ক্যামেরুনের দৌয়ালার শাখা কার্যালয়ে কাজ করছেন ১৪ জন স্থানীয় কর্মী।

পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতা

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এই কনস্যুলেটটি আফগানিস্তানের সবচেয়ে কাছের মার্কিন কূটনৈতিক মিশন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।

US State Department to close consulates in Canada, Japan and Indonesia,  sources say | Reuters

পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন করে এসব মিশন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

যেখানে বন্ধ, সেখানেই নতুন করে উপস্থিতি

একদিকে কয়েকটি ছোট কূটনৈতিক মিশন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া দেশগুলোতে আবারও কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিরিয়ার দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের শাসকদের অপসারণের পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ইতোমধ্যে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতিকে নতুন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের কৌশল অনুসরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।