সাইবার প্রতারণা দমনে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার। দেশটির সামরিক-সমর্থিত পার্লামেন্ট এমন একটি আইন অনুমোদন করেছে, যার আওতায় সাইবার প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে মানুষকে জোরপূর্বক আটকে রেখে বা সহিংসতার মাধ্যমে কাজ করাতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে।
কঠোর শাস্তির বিধান
নতুন আইনে বলা হয়েছে, যারা মানুষকে অপহরণ, আটকে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্যাতনের মাধ্যমে সাইবার প্রতারণা চক্রে কাজ করতে বাধ্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা সাইবার প্রতারণা চক্রের বিস্তার রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তজুড়ে সাইবার প্রতারণার বিস্তার

মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সাইবার প্রতারণা কেন্দ্র গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিভিন্ন দেশের নাগরিককে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের আটকে রেখে অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া বিনিয়োগ, প্রেমের ফাঁদ এবং আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রতারণা চক্রগুলোর কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন সময়ে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিককে এসব কেন্দ্র থেকে উদ্ধারও করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের বিচারব্যবস্থা ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। নতুন এই আইন কার্যকর হলে অপরাধ দমনে সরকারের ক্ষমতা বাড়বে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করলেও, এর প্রয়োগ কতটা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাইবার প্রতারণা এখন শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়; এটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। তাই এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিয়ানমারের নতুন আইন সেই কঠোর অবস্থানেরই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে সরকার সাইবার প্রতারণা ও জোরপূর্বক শ্রমে জড়িত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠিন বার্তা দিতে চায়।
সাইবার প্রতারণা দমনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করে নতুন আইন অনুমোদন করেছে মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার। জোরপূর্বক প্রতারণা কেন্দ্রে কাজ করালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















