১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রজাপতির আবাস বদলের বৈশ্বিক সংকেত, জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, আশাবাদ ট্রাম্পের শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের ক্ষোভ গ্ল্যাডিয়েটর মঞ্চে নতুন চমক, প্রথম তারকা যোদ্ধা হচ্ছেন জো মার্লার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ চীনের, ড্রোন রপ্তানিতে কড়াকড়ি কণ্ঠনালীতে কাঠের টুকরো আটকে ক্ষতির অভিযোগ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে সাবেক শিশুশিল্পীর মামলা জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার, ‘প্রয়োজন হলে নতুন সামরিক পদক্ষেপ’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে আবার ফিরছে ‘সবকিছু একসঙ্গে’ অ্যাপের ধারণা, এবার কি সফল হবে প্রযুক্তি জায়ান্টরা? পুলিশ কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হার্পারের হত্যাকারীদের আগাম মুক্তি ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত সমুদ্রে নিখোঁজ ১৩ বছরের কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ উপকূলীয় জনপদ

তিন বছর পর মিলল ১১২ মরদেহ, গাজায় গণকবরের শোকযাত্রায় কান্নায় ভেঙে পড়ল স্বজনরা

গাজার মধ্যাঞ্চলে হৃদয়বিদারক এক গণশেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন শত শত মানুষ। প্রায় তিন বছর আগে এক ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর মঙ্গলবার তাদের একসঙ্গে দাফন করা হয়। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনই ছিল শিশু। দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় এতদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় এক শতাধিক কফিন। প্রতিটি কফিনে মোড়ানো ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা। স্বজনরা শেষবারের মতো প্রার্থনা করেন। এরপর ধ্বংসস্তূপে ঘেরা রাস্তায় শোকমিছিল নিয়ে মরদেহগুলো কাছের একটি কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। চারদিকে ছিল কান্না আর স্বজন হারানোর বেদনা।

২০২৩ সালের সেই ভয়াবহ হামলা

২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গাজা সিটির একটি আবাসিক এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় একসঙ্গে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন বলে জানানো হয়। হামলার পরপরই স্থানীয় মানুষ হাতে থাকা সামান্য সরঞ্জাম দিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে প্রায় ৪০টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু বাকি বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়ে ছিলেন।

In Gaza, a mass funeral for 112 members of 2 families, three years after  deadly Israeli strike

পরবর্তী সময়ে এলাকাজুড়ে চলমান হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে উদ্ধারকাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বহু পরিবার বছরের পর বছর তাদের স্বজনদের ভাগ্য জানতে পারেনি।

যুদ্ধবিরতির পর আবার শুরু উদ্ধারকাজ

গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কিছু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা আবার ধ্বংসস্তূপ সরানোর সুযোগ পান। যদিও বিচ্ছিন্ন হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবুও সাম্প্রতিক উদ্ধার অভিযানে ওই আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় উদ্ধার কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলার ঘটনায় এখনো অন্তত ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ

Gaza holds mass funeral for 112 victims retrieved after 2.5 years under  rubble | Al Manassa

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো হাজারো মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে। স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত ৭ হাজার ৪০০ জনকে এখনো নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, অনেক হামলায় একই পরিবারের সবাই নিহত হওয়ায় নিখোঁজের তথ্য জানানোর মতোও কেউ বেঁচে নেই।

আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র

গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন, মানবাধিকারভিত্তিক কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, গাজায় বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের ওপর হামলার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সহিংসতা অব্যাহত

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও নতুন হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির খবর এসেছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগোলেও তা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।

Mass funeral in Gaza for 112 Palestinians killed in 2023 Israeli strike

ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হলে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে ইসরায়েল নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা তুলে বর্তমান প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা

প্রায় তিন বছরের যুদ্ধ গাজার বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। অধিকাংশ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর হারিয়ে অস্থায়ী তাঁবুশিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট এখনো তীব্র। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো মানুষের মরদেহ উদ্ধারের অপেক্ষায় অসংখ্য পরিবার এখনো স্বজনদের শেষ বিদায় জানানোর সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

গাজায় মঙ্গলবারের এই গণশেষকৃত্য শুধু ১১২ জন মানুষের দাফন নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, বেদনা ও যুদ্ধের নির্মম মানবিক মূল্যকে আবারও বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রজাপতির আবাস বদলের বৈশ্বিক সংকেত, জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সতর্কবার্তা

তিন বছর পর মিলল ১১২ মরদেহ, গাজায় গণকবরের শোকযাত্রায় কান্নায় ভেঙে পড়ল স্বজনরা

১১:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

গাজার মধ্যাঞ্চলে হৃদয়বিদারক এক গণশেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন শত শত মানুষ। প্রায় তিন বছর আগে এক ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর মঙ্গলবার তাদের একসঙ্গে দাফন করা হয়। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনই ছিল শিশু। দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় এতদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় এক শতাধিক কফিন। প্রতিটি কফিনে মোড়ানো ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা। স্বজনরা শেষবারের মতো প্রার্থনা করেন। এরপর ধ্বংসস্তূপে ঘেরা রাস্তায় শোকমিছিল নিয়ে মরদেহগুলো কাছের একটি কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। চারদিকে ছিল কান্না আর স্বজন হারানোর বেদনা।

২০২৩ সালের সেই ভয়াবহ হামলা

২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গাজা সিটির একটি আবাসিক এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় একসঙ্গে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন বলে জানানো হয়। হামলার পরপরই স্থানীয় মানুষ হাতে থাকা সামান্য সরঞ্জাম দিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে প্রায় ৪০টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু বাকি বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়ে ছিলেন।

In Gaza, a mass funeral for 112 members of 2 families, three years after  deadly Israeli strike

পরবর্তী সময়ে এলাকাজুড়ে চলমান হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে উদ্ধারকাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বহু পরিবার বছরের পর বছর তাদের স্বজনদের ভাগ্য জানতে পারেনি।

যুদ্ধবিরতির পর আবার শুরু উদ্ধারকাজ

গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কিছু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা আবার ধ্বংসস্তূপ সরানোর সুযোগ পান। যদিও বিচ্ছিন্ন হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবুও সাম্প্রতিক উদ্ধার অভিযানে ওই আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় উদ্ধার কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলার ঘটনায় এখনো অন্তত ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ

Gaza holds mass funeral for 112 victims retrieved after 2.5 years under  rubble | Al Manassa

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো হাজারো মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে। স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত ৭ হাজার ৪০০ জনকে এখনো নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, অনেক হামলায় একই পরিবারের সবাই নিহত হওয়ায় নিখোঁজের তথ্য জানানোর মতোও কেউ বেঁচে নেই।

আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র

গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন, মানবাধিকারভিত্তিক কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, গাজায় বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের ওপর হামলার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সহিংসতা অব্যাহত

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও নতুন হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির খবর এসেছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগোলেও তা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।

Mass funeral in Gaza for 112 Palestinians killed in 2023 Israeli strike

ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হলে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে ইসরায়েল নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা তুলে বর্তমান প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা

প্রায় তিন বছরের যুদ্ধ গাজার বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। অধিকাংশ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর হারিয়ে অস্থায়ী তাঁবুশিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট এখনো তীব্র। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো মানুষের মরদেহ উদ্ধারের অপেক্ষায় অসংখ্য পরিবার এখনো স্বজনদের শেষ বিদায় জানানোর সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

গাজায় মঙ্গলবারের এই গণশেষকৃত্য শুধু ১১২ জন মানুষের দাফন নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, বেদনা ও যুদ্ধের নির্মম মানবিক মূল্যকে আবারও বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।