কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ১ হাজার ৫৭৫টি বাড়ি, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৫২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার শহরের প্রায় ৩ মাইল পূর্বে

মারাত্মক কম্পন, ধসে পড়েছে ভবন
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার শহরের প্রায় ৩ মাইল পূর্বে। প্রায় ৫ হাজার মানুষের এই শহরটি কলম্বিয়ার দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোর একটি।
ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী পানামা, ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, পরে ২ দশমিক ৮ ও ৪ দশমিক ৮ মাত্রার দুটি পরাঘাতও রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি, প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাসের এই নগরীও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালি ছাড়াও কফি উৎপাদন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পেরেইরা ও মানিজালেসে ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
শিশুসহ প্রাণহানি, হাসপাতালেও ধস
কালিমা এল দারিয়েন শহরে দেয়াল ধসে তিন শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর দিলিয়ান ফ্রান্সিসকা তোরো। তিনি জানান, একটি হাসপাতালও ধসে পড়েছে। আরেকটি হাসপাতালে আহতদের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় সেখানে বিপুলসংখ্যক রোগী নেওয়া হয়। তৃতীয় একটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরের পেরেইরা শহরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। শহরটির মেয়র মরিসিও সালাজার জাতীয় একটি রেডিওকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
কালিতে উদ্ধারকাজে সাধারণ মানুষ
কালিতে অন্তত ২৬টি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র আলেহান্দ্রো এদের। উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের পাশাপাশি হেলমেট, কাজের গ্লাভস, পানি ও নিরাপত্তা চশমা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একটি ধসে পড়া ভবনের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা কাঠের খুঁটি ও খালি হাতে কংক্রিটের বড় টুকরো সরিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় একটি মোটেল ধসে পড়তে দেখে ৩৪ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো গনসালেসও স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারদলে যোগ দেন। প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন মিলে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেন তারা।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশে উঠে নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধানে ডাকতে থাকেন। কোনো কোনো স্থানে উদ্ধারকাজের সময় সবাইকে নীরব থাকতে বলা হয়, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেঁচে থাকা মানুষের আর্তনাদ শোনা যায়।

নতুন প্রেসিডেন্টের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট দে লা এস্প্রিয়েলার জন্য ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভূমিকম্প বড় জরুরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, কলম্বিয়ার জনগণ ও দেশটির সরকারের পাশে দাঁড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তুত।
রাজধানী বোগোতা ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫০ মাইল দূরে হলেও প্রাথমিক পরিদর্শনে সেখানে কোনো কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র কার্লোস ফার্নান্দো গালান। ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে পাঠানোর জন্য বোগোতা ১০০ জন উদ্ধারকর্মী ও ধ্বংসস্তূপ অপসারণের সরঞ্জাম প্রস্তুত করছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















