বিসিআই চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্রের পদত্যাগ দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস। এনএলএসএআর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (বিসিআই) হস্তক্ষেপে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের তীব্র আপত্তির পর শুক্রবার তিনি এ দাবি জানান।
দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে মানন কুমার মিশ্রের পদত্যাগ করা উচিত। আদালতের ভেতরে ও বাইরে থাকা ‘ককরোচদের’ এটি নিশ্চিত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিসিআইয়ের হস্তক্ষেপে প্রধান বিচারপতির আপত্তি
এনএলএসএআর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ঘটনায় বিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের অধিকারের বিষয়ে বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার নেই। আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ থেকে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিসিআই ও সব রাজ্য বার কাউন্সিলকে জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো শাস্তিমূলক বা ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ভবিষ্যতে বিসিআই যাতে এ ধরনের নির্দেশ জারি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার আবেদনও গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ বিসিআইকে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে সুরক্ষা
শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কে পরমেশ্বর বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিসিআইয়ের হস্তক্ষেপ সেই অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল।
প্রধান বিচারপতি বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো কারণ বা দাবি থাকলে তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তাদের থামানো যাবে না এবং আদালত তা হতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, এনএলএসএআর শিক্ষার্থীরা তাকে একটি চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সংলাপের অংশ এবং এ বিষয়ে বিসিআইয়ের হস্তক্ষেপ একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত।
ভর্তি স্থগিতের নির্দেশ, কয়েক ঘণ্টাতেই প্রত্যাহার
বিতর্কের সূত্রপাত এনএলএসএআরের সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি করার প্রস্তাবকে ঘিরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষার্থী এতে আপত্তি জানায়। ২০ জুলাই জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় কথিত পুলিশি বাড়াবাড়ি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে প্রধান বিচারপতির কিছু মন্তব্যেরও তারা উল্লেখ করে।
এরপর বিসিআই চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্র একটি নির্দেশ জারি করে সব রাজ্য বার কাউন্সিলকে এনএলএসএআরের ২০২৬ সালের কোনো আইন স্নাতককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত না করার কথা জানান। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিরোধিতার প্রচারণা কারা শুরু, সংগঠিত, সমন্বয় বা পরিচালনা করেছে, তাদের শনাক্ত করে একটি সত্যায়িত প্রতিবেদন দিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে নির্দেশ জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে বিসিআই তা প্রত্যাহার করে নেয়। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিকাশ সিংয়ের সমালোচনা এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের প্রতিবাদ কর্মসূচির হুমকির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বিসিআই প্রথমে জানায়, বিষয়টি নিয়ে তথ্য যাচাই চলবে। পরে সেই সিদ্ধান্তও প্রত্যাহার করা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















