ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করবেন। শুক্রবার ইরানের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএনআই।
ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। দেশটির সভাপতিত্বে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে জোটটির ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া’। ২০২৬ সালের শুরুতে ব্রাজিলের কাছ থেকে ব্রিকসের সভাপতিত্ব নেয় ভারত।
পেজেশকিয়ানের দিল্লি সফরকে ভারত-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি ব্রিকসের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পেজেশকিয়ান। সে সময় দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
২০২৪ সালে ইরান ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হয়। একই সময়ে মিসর, ইথিওপিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও জোটে যোগ দেয়। পরে ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হওয়ায় ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য দেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১-তে।
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যেই সফর
পেজেশকিয়ানের ভারত সফরের ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতকে ঘিরে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত বাহিনীর সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অঞ্চলটি অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে জুনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফর করেন। নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কমাতে ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
আরাগচি বলেছিলেন, বর্তমান সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতাই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কার্যকর পথ। তিনি ইরানের পক্ষ থেকে ভারতের যেকোনো গঠনমূলক ভূমিকার প্রতি স্বাগত জানানোর কথাও বলেন।
হরমুজে বাণিজ্য নিরাপত্তার বার্তা
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকেও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন আরাগচি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলো বাণিজ্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইরানের ওপর নির্ভর করতে পারে। হরমুজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইরানের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরান সরকারের এক বিবৃতিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আরাগচির বক্তব্যের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। সেখানে পশ্চিমা আধিপত্য ভাঙার প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়।
সেপ্টেম্বরে পেজেশকিয়ানের দিল্লি সফর তাই ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারত-ইরান সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















