সুস্থ থাকার জন্য সবসময় ব্যয়বহুল শরীরচর্চা কেন্দ্র, বিলাসবহুল অবকাশযাপন কিংবা দামি স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন হয় না। দৈনন্দিন জীবনের কিছু সহজ অভ্যাসও শরীর ও মন ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কম খরচে বা প্রায় বিনা খরচে সুস্থ থাকার এমন কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।
মিলিতভাবে শরীরচর্চা ও ধ্যান
শরীরচর্চার কেন্দ্রের সদস্যপদের খরচ অনেকের জন্যই বেশি হতে পারে। তাই নিজেরাই বিনা খরচে বা স্বল্প খরচে শরীর ও মন ভালো রাখার আয়োজন করতে পারেন। স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দল কিংবা বিভিন্ন অনলাইন গোষ্ঠীর মাধ্যমে এমন আয়োজনের সন্ধান পাওয়া যায়।
লন্ডনে যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক আনাস্তাসিয়া মিরাস্লাভস্কা প্রতি মাসে একটি শহরের পার্কে মানুষকে নিয়ে যোগব্যায়াম ও ধ্যানের আয়োজন করেন। কখনো অনলাইনেও ধ্যানের আসর বসে। কিছু আয়োজন বিনা খরচে, আবার কিছুতে সামান্য অর্থ নেওয়া হয়।
লিভারপুলেও এরকম একটি আয়োজন শুরু করেছেন মডেল এরিকা কোরেয়া। সেখানে মানুষ একসঙ্গে যোগব্যায়াম, শরীরচর্চা ও সৌন্দর্যচর্চার মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। তাঁর মতে, সুস্থ থাকার বিষয়টি অনেক বেশি নির্ভর করে জীবনের সিদ্ধান্ত ও নিজের সময়কে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর।
বাগান না থাকলেও গাছ লাগান
বাগান করা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে। এর জন্য অবশ্য নিজের বাড়িতে বড় বাগান থাকা জরুরি নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বাগান করেন, তাদের মানসিক স্বস্তি বেশি এবং চাপের মাত্রা তুলনামূলক কম হতে পারে। যাদের নিজস্ব জায়গা নেই, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অল্প বার্ষিক খরচে চাষের জন্য জমি নিতে পারেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক বাগানেও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকে। এসব জায়গায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃতির কাছে সময় কাটানোর পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ তৈরি হয়।
ফিরিয়ে আনুন পুরোনো শখ
পাখি দেখা, সুতা দিয়ে নকশা করা কিংবা হাতে তৈরি বিভিন্ন কাজের মতো একসময়কার পুরোনো শখ আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এগুলোর জন্য খুব বেশি অর্থও প্রয়োজন হয় না।
পাখি দেখার জন্য কাছের কোনো পার্কে গেলেই চলে। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি পাখি দেখা আনন্দ ও মানসিক স্বস্তি বাড়াতে পারে। গবেষণায় এমনও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে মাত্র আধা ঘণ্টা পাখি দেখার অভিজ্ঞতা মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের অনুভূতি বাড়াতে পারে।
সুতা দিয়ে নকশা করার কাজও খুব অল্প খরচে শুরু করা যায়। প্রয়োজন শুধু একটি কাঁটা ও একগোল সুতা। গবেষণায় এই ধরনের হাতের কাজের সঙ্গে মানসিক স্বস্তির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। চাপ, শোক কিংবা জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতি সামলাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
বাইরে বেরিয়ে শরীরচর্চা করুন
সুস্থ থাকার জন্য শরীরচর্চার কেন্দ্রে যেতেই হবে—এমন কোনো কথা নেই। নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে ব্যায়াম, বাইরে যোগব্যায়াম কিংবা দৌড়—সবই অল্প খরচে করা সম্ভব।
নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে ওঠবস, বুকডন ও ঝুলে ওঠার মতো ব্যায়াম করা যায়। এতে শক্তি, নমনীয়তা ও শরীরের সমন্বয় ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং বিশেষ কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না।
দৌড়ও দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। নতুনদের জন্য ধীরে ধীরে দৌড়ের অভ্যাস গড়ে তোলার বিভিন্ন বিনা খরচের কর্মসূচি রয়েছে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে একসময় টানা পাঁচ কিলোমিটার দৌড়ানোর সক্ষমতাও তৈরি করা সম্ভব।
ঘরেই করতে পারেন শব্দস্নান
শব্দস্নান বর্তমানে সুস্থ থাকার নতুন প্রবণতাগুলোর একটি। এতে বিভিন্ন ধরনের ধাতব ও স্ফটিকের পাত্র, ঘণ্টা ও বাদ্যযন্ত্রের মৃদু শব্দ ব্যবহার করে শরীর ও মনকে শিথিল করার চেষ্টা করা হয়।
তবে সরাসরি এমন আয়োজনের অংশ নিতে গেলে খরচ বেশি হতে পারে। এর পরিবর্তে ঘরে বসে অনলাইনে শব্দস্নানের রেকর্ড শোনা যায়। ধ্যানের বিভিন্ন মাধ্যমেও এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে পাওয়া সব রেকর্ডিংয়ের মান এক নয়। তাই অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক বা প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের তৈরি রেকর্ডিং বেছে নেওয়া ভালো। নিরিবিলি জায়গায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে মনোযোগ দিয়ে শুনলে এটি মানসিক প্রশান্তি আনতে সহায়ক হতে পারে।
সুস্থতার জন্য বড় বাজেট নয়, দরকার নিয়মিততা
সুস্থ জীবনযাপনের অর্থ সবসময় ব্যয়বহুল আয়োজন নয়। প্রকৃতির কাছে সময় কাটানো, নিয়মিত হাঁটা, বাগান করা, শখের কাজ করা, ধ্যান কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে শরীরচর্চার মতো সহজ অভ্যাসও দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন একটি অভ্যাস বেছে নেওয়া, যা নিজের জীবনের সঙ্গে মানানসই এবং দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত করা সম্ভব।
কম খরচে সুস্থ থাকার সহজ উপায়, বাগান করা, হাঁটা, ধ্যান ও পুরোনো শখের চর্চা—এসব অভ্যাস শরীর ও মন ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















