অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে বেলজিয়াম। দেশটি ইসরায়েলের ই-১ এলাকায় নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে।
বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো বলেছেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এর ফলে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও দুর্বল হবে।
তিনি সরাসরি বলেন, ‘ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ।’
১১ দেশের যৌথ সতর্কবার্তা
ই-১ প্রকল্প বাতিল এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ১১টি দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বেলজিয়ামের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও সুইডেন এতে স্বাক্ষর করেছে।
দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, ই-১ এলাকায় বসতি নির্মাণ করা হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই অংশে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক সংযোগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
নির্মাণের পরিকল্পনা
গত ১৮ আগস্ট ইসরায়েল ই-১ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পুরো প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৪০১টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ই-১ অঞ্চলটি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝামাঝি অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই এলাকায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
প্রকল্পের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ইর আমিম, বিমকম ও পিস নাও এবং ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা প্রকল্পটির বিরুদ্ধে জরুরি আবেদন করেছেন। আদালতে দায়ের করা আইনি চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণের দরপত্র স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
পশ্চিম তীরে নতুন ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ও ভৌগোলিক সংযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




















