দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ দশমিক ৭ কেজি সাপের বিষ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। জব্দ করা বিষের আনুমানিক মূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
বিজিবি জানিয়েছে, গত ১৩ আগস্ট দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার অম্বরী এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন, র্যাব-১৩ ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত দল অংশ নেয়।
অভিযানে তিনটি কাচের জারে রাখা প্রায় ৫ দশমিক ৭ কেজি সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মুঠোফোন ও ছয়টি মুঠোফোনের সংযোগও জব্দ করা হয়।
বিজিবির হিসাবে, উদ্ধার করা সামগ্রীর মোট মূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮০০ টাকা।

পরীক্ষায় মিলেছে আসল সাপের বিষ
বিজিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশে অতীতে জব্দ হওয়া সাপের বিষের অনেকগুলোই পরীক্ষার পর নকল প্রমাণিত হয়েছিল। এ কারণে এবার জব্দ করা পদার্থটি প্রকাশ্যে আনার আগে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের নির্দেশে গত ১৯ আগস্ট হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে নমুনাটির রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নমুনাটি সাপের বিষ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতিবেশী দেশে পাচারের অভিযোগ
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এর আগে প্রতিবেশী একটি দেশে সাপের বিষ পাচার করার কথাও জানিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজিবির ভাষ্য, উদ্ধার করা বিষও বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল।

আটক চারজন হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার দামুর গ্রামের মোখলেছুর হকের ছেলে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর সদর উপজেলার ছোট গুরগোলা গ্রামের মৃত এ কে এম শহীদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সানজু, ফুলবাড়ী উপজেলার ক্ষেতদেখি গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এবং বিরামপুর উপজেলার ক্রন্দনহাট গ্রামের মৃত মোবারকের ছেলে উজ্জ্বল আলী।
অভিযানের পর গত ১৩ আগস্ট আটক চারজন ও জব্দ করা সামগ্রী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, মূল্যবান সম্পদ, বন্যপ্রাণীজাত পণ্যসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রীর চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি কঠোরভাবে কাজ করছে।
সীমান্তপথে বিপুল মূল্যের সাপের বিষ পাচারের এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















