শ্রীলঙ্কায় দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তির ক্ষেত্রে এবার আনুষ্ঠানিক ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের ক্ষমা, সাজা কমানো এবং নির্দিষ্ট শর্তে মুক্তির বিষয়ে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সুপারিশ করেছে এ-সংক্রান্ত একটি কমিটি।
১০ মাসের পর্যালোচনায় কমিটির প্রতিবেদন
শ্রীলঙ্কার বিচার ও জাতীয় সংহতিবিষয়ক মন্ত্রী হর্ষণ নানায়াক্কারা জানিয়েছেন, সাবেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এস থুরাইরাজাকে প্রধান করে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় দ্রুত উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রায় ১০ মাস ধরে বিষয়টি পর্যালোচনা করার পর কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে এতদিন যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো, সেটিকে আরও স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজায় পরিবর্তনের সুপারিশ
কমিটির সুপারিশে মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর, যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ডে নামিয়ে আনা এবং যোগ্য বন্দিদের নিজ বাড়িতে নির্দিষ্ট সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ ক্ষমা ব্যবস্থার আওতায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের মুক্তির জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রস্তাব মন্ত্রিসভার সামনে উপস্থাপন করা হবে।
কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে মন্ত্রীর সাক্ষাৎ
এদিকে কলম্বো রিমান্ড কারাগার, নিউ ম্যাগাজিন কারাগার ও ওয়েলিকাদা কারাগার পরিদর্শনকালে মন্ত্রী নারী ও পুরুষ বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন।
সরকারি বিশ্লেষকের প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ায় অনেক রিমান্ড বন্দি দীর্ঘ সময় কারাগারে আটকে আছেন বলে মন্ত্রীকে জানানো হয়। এ ধরনের প্রতিবেদন দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
শ্রীলঙ্কা সরকার মনে করছে, নতুন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং যোগ্য বন্দিদের মুক্তির বিষয়েও একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা কার্যকর করা সম্ভব হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















