টিকটকে খাবারের ভিডিও দেখতে দেখতে ক্ষুধা লাগছে কিশোরদের। শুধু ক্ষুধাই নয়, এসব ভিডিও তাদের খাবার সম্পর্কে আগ্রহ ও পছন্দকেও প্রভাবিত করছে। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২৫ জন কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে কয়েকটি দলীয় আলোচনার মাধ্যমে তাদের টিকটক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগের বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৬ বছর।
টিকটকে খাবার দেখার শেষ নেই
গবেষণায় অংশ নেওয়া কিশোরদের কথায় উঠে এসেছে, টিকটকে খাবারসংক্রান্ত ভিডিওর যেন শেষ নেই। কেউ দ্রুত রান্নার প্রণালি দেখাচ্ছে, কেউ বিভিন্ন খাবারের দোকানের পর্যালোচনা করছে, আবার কেউ জনপ্রিয় খাবারের চ্যালেঞ্জে অংশ নিচ্ছে।
এ ছাড়া সারাদিনে কী খাই—এ ধরনের ভিডিওও তাদের সামনে নিয়মিত আসে। একটি খাবারের ভিডিও দেখার পর একই ধরনের আরও অনেক ভিডিও পরপর সামনে আসতে থাকে। ফলে খাবার নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়ে এবং অনেক সময় ভিডিও দেখতে দেখতেই কিছু খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়।
বিশেষ করে অন্য শহর বা দেশের কোনো খাবার দেখলে কিশোরদের অনেকেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে খেতে চান। কিন্তু খাবারটি হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় তা পাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে খাবার দেখার সঙ্গে সঙ্গে এক ধরনের আকাঙ্ক্ষাও তৈরি হয়।
জনপ্রিয় নির্মাতাদের প্রভাবও বড়
খাবারের ভিডিওর সঙ্গে জনপ্রিয় নির্মাতাদের প্রভাব যুক্ত হলে বিষয়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিপুল অনুসারী থাকা কোনো ব্যক্তি কোনো খাবার দেখালে সেটিকে দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে।
তবে গবেষণায় অংশ নেওয়া কিশোরেরা অর্থের বিনিময়ে তৈরি প্রচারমূলক ভিডিওও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বুঝতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
অভিভাবকদের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে পর্দার অ্যালগরিদম
খাবারের বিষয়ে কিশোরদের ওপর অভিভাবকদের প্রভাব থাকলেও টিকটকের স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো ভিডিওগুলোর প্রভাব অনেক বেশি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে পরিবার একেবারে গুরুত্বহীন নয়। একসঙ্গে খাবার খাওয়া, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো এবং খাদ্যাভ্যাস ও শরীর নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কিশোরদের টিকটকে দেখা নানা তথ্য বুঝতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে কোন বিষয়টি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি শুধু আকর্ষণ তৈরির জন্য দেখানো হচ্ছে—সেটি নিয়েও প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি হয়।
ছোট গবেষণা, তবে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
গবেষকেরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, এটি ছিল ছোট পরিসরের একটি অনুসন্ধানমূলক গবেষণা। মাত্র ২৫ জন কিশোর এতে অংশ নিয়েছে। তারা বাস্তবে কী ধরনের খাবার খায়, তার বৈজ্ঞানিক পরিমাপ করা হয়নি। একইভাবে টিকটকে খাবারের ভিডিও দেখা এবং বাস্তব খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্কও প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।
তবু গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছে। প্রতিদিনের অসংখ্য খাবারের ছবি ও ভিডিও যখন কিশোরদের চোখের সামনে ভেসে উঠছে, তখন সেগুলো তাদের ক্ষুধা, খাবারের আকাঙ্ক্ষা এবং খাবার সম্পর্কে ভাবনাকে প্রভাবিত করতেই পারে।
টিকটকের খাবারের ভিডিও এখন শুধু বিনোদন নয়—কিশোরদের খাবারের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা তৈরিতেও এর ভূমিকা বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















